আপনি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোন কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تتلو — তিলাওয়াত করা, পড়া।
تخطه — লেখা, লিপিবদ্ধ করা।
يمينك — তোমার ডান হাত।
المبطلون — যারা মিথ্যা ও অসত্যের পথে চলে, বাতিলপন্থীরা।
তাফসীর:
হে নবী! এটি আপনার নবুওয়াতের সত্যতার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, আপনার উপর কুরআন নাযিল হওয়ার আগে আপনি কোনো কিতাব পড়তেন না এবং নিজের ডান হাতে কোনো কিছু লিখতেনও না। আপনি ছিলেন সম্পূর্ণ উম্মী (অশিক্ষিত) — না পড়তে জানতেন, না লিখতে। কুরআন নাযিলের পূর্বে আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা আপনাকে চিনত, তারা জানত যে, আপনি কোনো দিন কোনো বই পড়েননি বা লেখেননি। আপনার এই নিরক্ষরতা ছিল আপনার সত্যতার অন্যতম বড় প্রমাণ।
যদি আপনি আগে পড়তে বা লিখতে পারতেন, তাহলে বাতিলপন্থীরা — যারা সত্যকে মেনে নিতে চায় না — তারা সন্দেহ করার সুযোগ পেত এবং বলত: “সে আগের কিতাবগুলো থেকে পড়ে বা লিখে নিয়ে এই কুরআন রচনা করেছে।” কিন্তু যেহেতু আপনি ছিলেন নিরক্ষর, তাই তাদের এই অপবাদের কোনো পথই খোলা ছিল না। এই নিরক্ষরতা থেকেই প্রমাণিত হয় যে, এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, কোনো মানুষের রচনা নয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিরক্ষরতা ছিল তার নবুওয়াতের সত্যতার একটি মহান প্রমাণ। এটি আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন যে, একজন নিরক্ষর মানুষের মাধ্যমে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম কিতাব নাযিল হলো।
কুরআন আল্লাহর বাণী — এটি কোনো মানুষের রচনা নয়। কারণ, একজন নিরক্ষর ব্যক্তি নিজে থেকে এমন চমৎকার, বালাগাতপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ কিতাব রচনা করা অসম্ভব।
সত্যের পথে বাধা দিতে চাওয়া লোকেরা সবসময় অজুহাত খোঁজে, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীকে এমনভাবে রক্ষা করেন যে, তাদের কোনো অজুহাতই খোলা থাকে না।
এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহর কাজে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। যারা সত্যকে মেনে নিতে চায় না, তারা নানা অজুহাত দাঁড় করায়, কিন্তু আল্লাহর প্রমাণ সর্বদা সুস্পষ্ট ও অকাট্য।
এটি আমাদের ঈমান মজবুত করে যে, কুরআন একটি চিরন্তন মু'জিযা, যা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য হিদায়াতের উৎস হয়ে থাকবে।
তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে-ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ।
এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।
তারা বলে, তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে তার প্রতি কিছু নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? বলুন, নিদর্শন তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আমি তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।