হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اتَّقُوا اللَّهَ: আল্লাহকে ভয় করুন, তাঁর আদেশ পালন করুন এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকুন।
حَقَّ تُقَاتِهِ: তাঁকে ভয় করার প্রকৃত অধিকার অনুযায়ী ভয় করা, অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাকওয়া।
وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ: তোমরা মৃত্যুবরণ করো না, তবে মুসলিম (আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী) অবস্থায়।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
হে ঈমানদারগণ! যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাঁর বিধান মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো সেইভাবে, যা তাঁর পাওনা। অর্থাৎ তাঁর আনুগত্য এমনভাবে করো যেন কোনো অবস্থাতেই তাঁর অবাধ্যতা না হয়, তাঁর শুকরিয়া এমনভাবে আদায় করো যেন কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার না করো, এবং তাঁকে এমনভাবে স্মরণ করো যেন কখনো ভুলে না যাও। এই তাকওয়াই হলো প্রকৃত তাকওয়া—যেখানে বান্দা আল্লাহর আদেশ পালনে সচেষ্ট থাকে, তাঁর নিষেধ থেকে দূরে থাকে এবং তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ থাকে। আর তোমরা সর্বদা ইসলামের উপর অটল থাকো, যেন মৃত্যু আসে শুধু মুসলিম অবস্থায়—অর্থাৎ আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী ও ঈমানদার হয়ে। কারণ মৃত্যুর সময় যে অবস্থায় থাকবে, সেই অবস্থাতেই আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ইসলামের আলোয় সাজিয়ে নাও, যাতে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঈমান ও ইসলামের উপর টিকে থাকতে পারো।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
তাকওয়ার সঠিক অর্থ হলো আল্লাহকে ভয় করা তাঁর পাওনা মোতাবেক—যা কেবল নামে নয়, বরং কাজে ও আচরণে প্রকাশ পায়। এটি মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
ইসলামের উপর অটল থাকা ও মৃত্যু পর্যন্ত ঈমান ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেষ অবস্থাই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে।
এই আয়াত মুমিনকে সতর্ক করে যে, মৃত্যু অনিবার্য, তাই প্রতিটি মুহূর্তকে সৎকাজ ও আল্লাহর আনুগত্যে কাটানো উচিত, যেন মৃত্যু এসে আমাদেরকে অপ্রস্তুত না পায়।
তাকওয়া ও ইসলামের উপর স্থিরতা মানুষকে পার্থিব জীবনে শান্তি ও আখিরাতে সাফল্য এনে দেয়—এটিই মুমিনের চিরন্তন বিজয়ের পথ।
আর তোমরা কেমন করে কাফের হতে পার, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াত সমূহ এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রসূল। আর যারা আল্লাহর কথা দৃঢ়ভাবে ধরবে, তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সরল পথের।
আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।