তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত কারও সাথে কথা বলবে না। তবে ইশারা ইঙ্গতে করতে পারবে এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে আর সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ज़करिया ने अर्ज़ की परवरदिगार मेरे इत्मेनान के लिए कोई निशानी मुक़र्रर फ़रमा इरशाद हुआ तुम्हारी निशानी ये है तुम तीन दिन तक लोगों से बात न कर सकोगे मगर इशारे से और (उसके शुक्रिये में) अपने परवरदिगार की अक्सर याद करो और रात को और सुबह तड़के (हमारी) तसबीह किया करो
তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত কারও সাথে কথা বলবে না। তবে ইশারা ইঙ্গতে করতে পারবে এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে আর সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আয়াত (آيَة): এখানে অর্থ নিদর্শন বা চিহ্ন।
রামযান (رَمْزًا): ইশারা বা সংকেতের মাধ্যমে কথা বলা।
আশিয়্য (الْعَشِيّ): সূর্য ঢলার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়।
ইবকার (الْإِبْكَار): ফজরের পর থেকে সকাল বেলা পর্যন্ত সময়।
তাফসীর:
হযরত যাকারিয়া (আঃ) যখন জানতে পারলেন যে, আল্লাহ তাকে একটি পুত্র সন্তান দান করবেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে একটি নিদর্শন কামনা করলেন, যাতে তিনি এই সুসংবাদের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন এবং এর মাধ্যমে তার আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা আরও বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাকে বললেন, তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে কথা বলতে পারবে না—কেবল ইশারা বা সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে। তবে তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে এবং তোমার কোনো শারীরিক সমস্যা হবে না। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অলৌকিক নিদর্শন, যা প্রমাণ করে যে, এই সন্তান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে আসবে। এই সময়ে আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, যখন মানুষের সাথে কথা বলা বন্ধ থাকবে, তখন যেন আল্লাহর জিকির ও ইবাদতের মাধ্যমে তার সময় কাটে এবং এই নীরবতা তার জন্য ইবাদতের সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর নবীগণও যখন কোনো মহান অনুগ্রহ লাভ করতেন, তখন তারা আল্লাহর কাছে নিদর্শন কামনা করতেন, যাতে তাদের ঈমান ও প্রশান্তি আরও দৃঢ় হয়। আমাদের উচিত আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁর স্মরণে সময় কাটানো।
কষ্ট বা অসুবিধার সময়ও আল্লাহর জিকির ও ইবাদত থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয়। বরং এই সময়গুলোতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ খুঁজে নেওয়া উচিত।
আল্লাহর স্মরণ (জিকির) এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাসবিহ পাঠ করা মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করে।
মানুষের সাথে কথা বলার সুযোগ না থাকলেও আল্লাহর জিকির বন্ধ হয় না—এটি শেখায় যে, আল্লাহর স্মরণ এমন একটি ইবাদত, যা সব অবস্থায় করা যায় এবং এর কোনো সময় বা শর্ত নেই।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনে বাধা আসলেও তা আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। যাকারিয়া (আঃ)-এর নীরবতা তার জন্য ইবাদতের নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল।
যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।
তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, আল্লাহ এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।
তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত কারও সাথে কথা বলবে না। তবে ইশারা ইঙ্গতে করতে পারবে এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে আর সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।
আর যখন ফেরেশতা বলল হে মারইয়াম!, আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্ধ্বে মনোনীত করেছেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।