আল-ইমরান · 66/200
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইমরান
هَا أَنتُمْ هَٰؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُم بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ۝٦٦
Haaa antum haaa`ulaaa`i baajajtum feemaa lakum bihee `ilmun falima tuhaaajjoonaa feemaa laisa lakum bihee `ilm; wallaahu ya`lamu wa antum laa ta`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • হা আন্তুম – তোমরাই তো (এখানে সম্বোধনের জন্য ব্যবহৃত)
  • হাজাজতুম – তোমরা বিতর্ক করেছ / তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়েছ
  • ফিমা লাকুম বিহি ইলম – যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান আছে
  • ফালিমা তুহাজ্জুন – তবে কেন বিতর্ক করছ?
  • ফিমা লাইসা লাকুম বিহি ইলম – যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই
  • ওয়াল্লাহু ইয়া‘লামু ওয়া আনতুম লা তা‘লামূন – আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জান না

তাফসীর:

হে আহলে কিতাব! তোমরাই তো সেই দল, যারা নিজেদের ধর্মীয় বিষয়ে যা তোমাদের জানা ছিল এবং নিজেদের কিতাবে যা পেয়েছিলে—সেসব বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিতর্ক ও তর্ক করেছ। তোমরা মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ব্যাপারে যা জানতে, তা নিয়ে তর্ক করতে পারতে, কারণ সে সম্পর্কে তোমাদের কিতাবে কিছু তথ্য ছিল। কিন্তু ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে তোমরা কেন বিতর্ক করছ? অথচ তার জীবন ও ধর্ম সম্পর্কে তোমাদের কোনো নির্ভরযোগ্য জ্ঞান নেই, তা তোমাদের কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখও নেই, আর তোমাদের নবীদের মাধ্যমেও তা প্রমাণিত নয়। তোমরা এমন বিষয়ে কথা বলছ যা সম্পর্কে তোমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ, আর আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু জানেন—তিনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রকৃত অবস্থা, তার ধর্ম ও বিশ্বাস সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। তোমাদের অজ্ঞতা ও মিথ্যা ধারণার কারণে আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় তোমাদের কিছুই জানা নেই। তাই তোমাদের উচিত ছিল আল্লাহর নির্দেশ মেনে সত্যকে গ্রহণ করা, অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিতর্ক না করা।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কথা বলা বা তর্ক করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। একজন মুমিনের উচিত অজানা বিষয়ে নীরব থাকা এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের নির্ভরযোগ্য শিক্ষা থেকে জ্ঞান অর্জন করা।
  2. অহংকার ও গোঁড়ামির কারণে সত্যকে অস্বীকার করা এবং অজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া মানুষের বড় ভুল। ইসলাম আমাদের শেখায় বিনয়ের সাথে সত্য গ্রহণ করতে।
  3. আল্লাহর জ্ঞান অসীম, আর মানুষের জ্ঞান সীমিত। তাই নিজের সীমাবদ্ধ জ্ঞানকে আল্লাহর জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহ যা জানিয়েছেন তা-ই চূড়ান্ত সত্য।
  4. এই আয়াত আমাদেরকে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করে, কারণ অজ্ঞতা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে, আর জ্ঞানই মানুষকে সত্যের পথ দেখায়।
  5. ইসলাম ধর্মে যুক্তি-তর্কের গুরুত্ব আছে, কিন্তু তা হতে হবে জ্ঞানের ভিত্তিতে এবং সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে, কেবল জিদ ও বিতর্কের জন্য নয়।


📜 আয়াত 64-68 — সূরা আল-ইমরান

64قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।
65يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنجِيلُ إِلَّا مِن بَعْدِهِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা ইব্রাহীমের বিষয়ে বাদানুবাদ কর? অথচ তওরাত ও ইঞ্জিল তাঁর পরেই নাযিল হয়েছে। তোমরা কি বুঝ না?
66هَا أَنتُمْ هَٰؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُم بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ?
67مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَٰكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
ইব্রাহীম ইহুদী ছিলেন না এবং নাসারাও ছিলেন না, কিক্তু তিনি ছিলেন ‘হানীফ’ অর্থাৎ, সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্নসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না।
68إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَٰذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا ۗ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ
মানুষদের মধ্যে যারা ইব্রাহীমের অনুসরণ করেছিল, তারা, আর এই নবী এবং যারা এ নবীর প্রতি ঈমান এনেছে তারা ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম-আর আল্লাহ হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
66আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 66

সূরা আল-ইমরান আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ…

সূরা আয়াত 66/200 — সূরা আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইমরান শুনুন, সূরা আল-ইমরান অনুবাদ, সূরা আল-ইমরান mp3, সূরা আল-ইমরান pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না