শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ?
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तो क्या तुम इतना भी नहीं समझते? (ऐ लो अरे) तुम वही एहमक़ लोग हो कि जिस का तुम्हें कुछ इल्म था उसमें तो झगड़ा कर चुके (खैर) फिर तब उसमें क्या (ख्वाह मा ख्वाह) झगड़ने बैठे हो जिसकी (सिरे से) तुम्हें कुछ ख़बर नहीं और (हकॣक़ते हाल तो) खुदा जानता है और तुम नहीं जानते
ফিমা লাইসা লাকুম বিহি ইলম – যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই
ওয়াল্লাহু ইয়া‘লামু ওয়া আনতুম লা তা‘লামূন – আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জান না
তাফসীর:
হে আহলে কিতাব! তোমরাই তো সেই দল, যারা নিজেদের ধর্মীয় বিষয়ে যা তোমাদের জানা ছিল এবং নিজেদের কিতাবে যা পেয়েছিলে—সেসব বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিতর্ক ও তর্ক করেছ। তোমরা মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ব্যাপারে যা জানতে, তা নিয়ে তর্ক করতে পারতে, কারণ সে সম্পর্কে তোমাদের কিতাবে কিছু তথ্য ছিল। কিন্তু ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে তোমরা কেন বিতর্ক করছ? অথচ তার জীবন ও ধর্ম সম্পর্কে তোমাদের কোনো নির্ভরযোগ্য জ্ঞান নেই, তা তোমাদের কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখও নেই, আর তোমাদের নবীদের মাধ্যমেও তা প্রমাণিত নয়। তোমরা এমন বিষয়ে কথা বলছ যা সম্পর্কে তোমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ, আর আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু জানেন—তিনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রকৃত অবস্থা, তার ধর্ম ও বিশ্বাস সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। তোমাদের অজ্ঞতা ও মিথ্যা ধারণার কারণে আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় তোমাদের কিছুই জানা নেই। তাই তোমাদের উচিত ছিল আল্লাহর নির্দেশ মেনে সত্যকে গ্রহণ করা, অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিতর্ক না করা।
শিক্ষা ও উপদেশ:
যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কথা বলা বা তর্ক করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। একজন মুমিনের উচিত অজানা বিষয়ে নীরব থাকা এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের নির্ভরযোগ্য শিক্ষা থেকে জ্ঞান অর্জন করা।
অহংকার ও গোঁড়ামির কারণে সত্যকে অস্বীকার করা এবং অজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া মানুষের বড় ভুল। ইসলাম আমাদের শেখায় বিনয়ের সাথে সত্য গ্রহণ করতে।
আল্লাহর জ্ঞান অসীম, আর মানুষের জ্ঞান সীমিত। তাই নিজের সীমাবদ্ধ জ্ঞানকে আল্লাহর জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহ যা জানিয়েছেন তা-ই চূড়ান্ত সত্য।
এই আয়াত আমাদেরকে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করে, কারণ অজ্ঞতা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে, আর জ্ঞানই মানুষকে সত্যের পথ দেখায়।
ইসলাম ধর্মে যুক্তি-তর্কের গুরুত্ব আছে, কিন্তু তা হতে হবে জ্ঞানের ভিত্তিতে এবং সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে, কেবল জিদ ও বিতর্কের জন্য নয়।
বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।
ইব্রাহীম ইহুদী ছিলেন না এবং নাসারাও ছিলেন না, কিক্তু তিনি ছিলেন ‘হানীফ’ অর্থাৎ, সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্নসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না।
মানুষদের মধ্যে যারা ইব্রাহীমের অনুসরণ করেছিল, তারা, আর এই নবী এবং যারা এ নবীর প্রতি ঈমান এনেছে তারা ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম-আর আল্লাহ হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।