Law araadal laahu aiyattakhiza waladal lastafaa mimmaa yakhluqu maa yashaaa`; Subhaanahoo Huwal laahul Waahidul Qahhaar
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা করতেন, তবে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা কিছু ইচ্ছা মনোনীত করতেন, তিনি পবিত্র। তিনি আল্লাহ, এক পরাক্রমশালী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अगर खुदा किसी को (अपना) बेटा बनाना चाहता तो अपने मख़लूक़ात में से जिसे चाहता मुन्तखिब कर लेता (मगर) वह तो उससे पाक व पाकीज़ा है वह तो यकता बड़ा ज़बरदस्त अल्लाह है
আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা করতেন, তবে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা কিছু ইচ্ছা মনোনীত করতেন, তিনি পবিত্র। তিনি আল্লাহ, এক পরাক্রমশালী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَاصْطَفَىٰ — অবশ্যই মনোনীত করতেন, বেছে নিতেন।
سُبْحَانَهُ — তিনি পবিত্র, সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।
الْوَاحِدُ — একক, যাঁর কোনো শরিক নেই।
الْقَهَّارُ — পরাক্রমশালী, যিনি সবকিছুর উপর বিজয়ী ও সবকিছুকে নিজের ক্ষমতাবলে বশীভূত করেন।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মুশরিকদের সেই মিথ্যা ধারণার খণ্ডন করেছেন, যারা মনে করত যে, আল্লাহর সন্তান আছে—খ্রিষ্টানরা ঈসা (আ.)-কে এবং আরবের মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলত। আল্লাহ বলেন, যদি তিনি সত্যিই সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তবে তিনি নিজের সৃষ্টি থেকে যা ইচ্ছা মনোনীত করে নিতেন—কারণ তাঁর পক্ষে তা সম্ভব। কিন্তু তিনি তা করেননি, বরং তিনি নিজেকে এ ধরনের দোষ থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তিনি তো সেই সত্তা, যিনি একক—তাঁর কোনো স্ত্রী নেই, কোনো সন্তান নেই, কোনো শরিক নেই। তিনি পরাক্রমশালী, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতকে নিজের ইচ্ছা ও ক্ষমতার অধীনে রেখেছেন। প্রতিটি সৃষ্টি তাঁর সামনে বিনীত ও অনুগত। সুতরাং যিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক, তাঁর পক্ষে সন্তান গ্রহণ করা কীভাবে সম্ভব? সন্তান তো প্রয়োজন ও অভাব থেকে জন্ম নেয়, আর আল্লাহ তো সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী, অভাবমুক্ত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মিথ্যা ধারণা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে পবিত্র। তাঁর সম্পর্কে কোনো দোষ বা ত্রুটি চিন্তা করা যাবে না।
আল্লাহর একত্বই ইসলামের মূল ভিত্তি। তিনি একক, অদ্বিতীয়—তাঁর কোনো অংশীদার, সহচর বা সন্তান নেই।
আল্লাহর ক্ষমতা অপরিসীম। তিনি যা চান তাই করেন, তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটে না। তাঁর ক্ষমতার সামনে সবাই নতজানু।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রাখতে হবে এবং তাঁর সম্পর্কে কোনো অশোভন ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ তিনি আমাদের স্রষ্টা, রক্ষক ও পালনকর্তা—যিনি আমাদের প্রতি অশেষ mercy ও দয়া করেছেন।
জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত। যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের এবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।
তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।