In tu`azzibhum fa innahum ibaaduka wa in taghfir lahum fa innaka Antal `Azzezul Hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तू अगर उन पर अज़ाब करेगा तो (तू मालिक है) ये तेरे बन्दे हैं और अगर उन्हें बख्श देगा तो (कोई तेरा हाथ नहीं पकड़ सकता क्योंकि) बेशक तू ज़बरदस्त हिकमत वाला है
الْعَزِيزُ – পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না
الْحَكِيمُ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ নিখুঁত হিকমতের সাথে করেন
তাফসীর:
হে আমার রব! আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আপনি তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। আপনার ন্যায়বিচার অনুযায়ী আপনি তাদের সাথে যা ইচ্ছা করতে পারেন — এতে কারো কোনো আপত্তি বা প্রশ্নের অবকাশ নেই। কারণ বান্দার উপর তার মালিকের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, আপনি যদি তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং তাওবা করেছে তাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তবে那也是 আপনার অনুগ্রহ ও দয়া। আপনার ক্ষমা করার পথে কোনো বাধা নেই, কারণ আপনি পরাক্রমশালী — কেউ আপনার সিদ্ধান্তকে প্রতিহত করতে পারে না, এবং আপনি প্রজ্ঞাময় — আপনার প্রতিটি কাজ গভীর জ্ঞান ও হিকমতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।
এই আয়াতটি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বহন করে — তাঁর ন্যায়বিচার, ক্ষমা, পরিপূর্ণ জ্ঞান ও হিকমতের স্বীকৃতি। নবী ঈসা (আঃ) এখানে তাঁর উম্মতের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিচ্ছেন — শাস্তি দিলে তা ন্যায়, আর ক্ষমা করলে তা অনুগ্রহ। উভয় অবস্থায় আল্লাহর কর্তৃত্ব ও প্রজ্ঞা সুপ্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্পণ — বান্দার কর্তব্য হলো আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা, তা যাই হোক না কেন। কারণ আল্লাহ যা কিছু করেন, তা ন্যায় ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতেই করেন।
আল্লাহর ক্ষমা অপরিসীম — বান্দা যত বড় পাপীই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা। তাওবা ও ঈমানের সাথে ফিরে এলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন, কারণ তিনি পরাক্রমশালী — তাঁর ক্ষমার পথে কোনো বাধা নেই।
ন্যায় ও অনুগ্রহের সমন্বয় — আল্লাহর মধ্যে ন্যায়বিচার (শাস্তি) এবং অনুগ্রহ (ক্ষমা) উভয়ই বিদ্যমান। এটি আমাদের শেখায় যে, জীবনে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে হবে, সাথে সাথে ক্ষমা ও দয়ার গুণও আয়ত্ত করতে হবে।
আল্লাহর প্রশংসা করা — এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর গুণগান করা এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করে।
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।
আল্লাহ বললেনঃ আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্যে উদ্যান রয়েছে, যার তলদেশে নির্ঝরিনী প্রবাহিত হবে; তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটিই মহান সফলতা।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।