আল-মায়িদা · 117/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ۝١١٧
Maa qultu lahum illaa maaa amartanee bihee ani`budul laaha Rabbeee wa Rabbakum; wa kuntu `alaihim shaheedam maa dumtu feehim falammaa tawaffaitanee kunta Antar Raqeeba `alaihim; wa Anta `alaa kulli shai`in Shaheed
📖 বাংলা অর্থ
আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شَهِيدًا – সাক্ষী, পর্যবেক্ষক।
  • مَا دُمْتُ فِيهِمْ – যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম।
  • تَوَفَّيْتَنِي – তুমি আমাকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করেছ (অর্থাৎ আমার পার্থিব জীবন শেষ করে আমাকে উঠিয়ে নিয়েছ)।
  • الرَّقِيبَ – তত্ত্বাবধানকারী, পর্যবেক্ষক, সংরক্ষণকারী।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হজরত ঈসা (আ.) কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করতে গিয়ে বলবেন: “হে আমার রব! আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সেই কথাই বলেছি যা আপনি আমাকে আদেশ করেছিলেন—সেটি হলো, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদের রব। আমি তাদেরকে একমাত্র আপনারই উপাসনা করার নির্দেশ দিয়েছি এবং শিরক থেকে বিরত থাকতে বলেছি। আমি যতদিন তাদের মাঝে জীবিত ছিলাম, ততদিন আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম—তাদের কথা, কাজ এবং বিশ্বাস সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম। তারা আমার কাছে যা প্রকাশ করত, আমি তা দেখতাম ও জানতাম। কিন্তু যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন (আমার পার্থিব জীবন শেষ করে আসমানে সম্মানিতভাবে উত্তোলন করলেন), তখন আপনিই তাদের একমাত্র তত্ত্বাবধানকারী। আপনি তাদের গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছু জানেন, তাদের অন্তরের খবরও রাখেন। আর আপনি তো প্রতিটি জিনিসের ওপরই সাক্ষী—আমার কথা এবং তাদের কথাও আপনার কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার।”

অর্থাৎ, ঈসা (আ.) এখানে স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, তার দায়িত্ব শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া ছিল। তিনি কখনো নিজ থেকে কিছু বলেননি, আর তার অনুসারীরা পরে যা কিছু করেছিল—তাকে দেবতা বানানো বা অন্য কোনো ভ্রান্ত বিশ্বাস গ্রহণ করা—তা তার শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিল এবং তিনি এর জন্য দায়ী নন। আল্লাহই সবকিছুর প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. প্রতিটি নবী ও রাসূলের মূল দাওয়াত ছিল একটিই—শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত এবং শিরক থেকে বিরত থাকা। ঈসা (আ.)-ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।
  2. নবী-রাসূলগণ আল্লাহর আদেশের বাইরে নিজ থেকে কিছু বলেন না; তারা সম্পূর্ণ অনুগত ও আমানতদার ছিলেন।
  3. মানুষের ওপর দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া; মানুষ তা মানবে কি মানবে না—তার ফলাফল আল্লাহর কাছে।
  4. আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের ওপর সাক্ষী ও পর্যবেক্ষক। আমাদের প্রতিটি কথা, কাজ এমনকি অন্তরের গোপন চিন্তাও তাঁর অজানা নয়। তাই আমাদের উচিত সর্বদা সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলা।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, কোনো মানুষকে অতিরঞ্জিতভাবে সম্মান করা বা তাদেরকে আল্লাহর মর্যাদায় বসানো সম্পূর্ণ ভুল এবং নবীগণ নিজেরাও এ ধরনের কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিমুক্ত।


📜 আয়াত 115-119 — আল-মায়িদা

115قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ ۖ فَمَن يَكْفُرْ بَعْدُ مِنكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَّا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ
আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
116وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
117مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।
118إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ।
119قَالَ اللَّهُ هَٰذَا يَوْمُ يَنفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ ۚ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আল্লাহ বললেনঃ আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্যে উদ্যান রয়েছে, যার তলদেশে নির্ঝরিনী প্রবাহিত হবে; তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটিই মহান সফলতা।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
117আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 117

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 117 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা…

সূরা আয়াত 117/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 115–119. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না