আল-মায়িদা · 63/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ ۝٦٣
Law laa yanhaahumur rabbaaniyyoona wal ahbaaru `an qawlihimul ismaa wa aklihimus suht; labi`sa maa kaanoo yasna`oon
📖 বাংলা অর্থ
দরবেশ ও আলেমরা কেন তাদেরকে পাপ কথা বলতে এবং হারাম ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না? তারা খুবই মন্দ কাজ করছে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • রব্বানিয়্যুন (الرَّبَّانِيُّونَ): ঐশী জ্ঞানসম্পন্ন আলিম ও ধর্মীয় নেতারা, যারা আল্লাহভীরু ও দ্বীনি ইলমে গভীর জ্ঞান রাখেন।
  • আহবার (الْأَحْبَارُ): ইহুদি পণ্ডিত ও ধর্মীয় পণ্ডিতগণ (আহবার শব্দটি 'হিবর' এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞানী ব্যক্তি)।
  • ইসম (الْإِثْم): মিথ্যা কথা, গীবত, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং এমন সব কথা যা পাপ ও গুনাহের কাজ।
  • সুহ্ত (السُّحْتَ): হারাম উপার্জন, ঘুষ, সুদ, প্রতারণা ও অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করা।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইহুদি পণ্ডিত ও ধর্মীয় নেতাদের কঠোর ভর্ৎসনা করেছেন। প্রশ্ন করা হচ্ছে— কেন তাদের আলিম ও পণ্ডিতগণ তাদেরকে মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, গীবত করা এবং হারাম উপার্জন ও ঘুষ খাওয়া থেকে নিষেধ করেন না? অথচ তাদের কর্তব্য ছিল সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। কিন্তু তারা যখন নীরব থেকে গেল এবং এই অন্যায় কাজগুলোতে বাধা দিল না, তখন তারা নিজেরাও এই পাপের অংশীদার হয়ে গেল।

আল্লাহ তাআলা বলেন, "লাবি'ছা মা কানু ইয়াসনাউন" অর্থাৎ তারা যা করছে তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও জঘন্য কাজ। এখানে উভয় পক্ষকেই তিরস্কার করা হয়েছে— একদিকে যারা পাপ কাজ করছে, অন্যদিকে যারা জেনেও নীরব থেকে পাপ কাজে বাধা দিচ্ছে না। কারণ, আলিম ও পণ্ডিতদের দায়িত্ব হলো মানুষকে সৎপথে আহ্বান করা এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখা। যখন তারা এই দায়িত্ব পালন করবে না, তখন তারা নিজেরাও আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে।

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, জ্ঞান ও দ্বীনি পদমর্যাদা শুধু মুখে বলার বিষয় নয়; বরং এর সাথে দায়িত্বও জড়িত। যে আলিম সমাজের অন্যায় দেখেও চুপ থাকে, সে আল্লাহর দৃষ্টিতে অপরাধী।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আলিম ও বিদ্বানদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখা। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা মারাত্মক অপরাধ।
  2. সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি অন্যায় দেখেও নীরব থাকেন, তবে তারা নিজেরাও সেই অন্যায়ের অংশীদার হবেন। নীরবতা দিয়ে অন্যায়ের সমর্থন করা হয় না, বরং তা অন্যায়কে আরও বাড়িয়ে দেয়।
  3. ইসলামে শুধু নিজে ভালো হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং অপরকে ভালোর পথে আহ্বান করা এবং মন্দ থেকে বিরত রাখাও প্রতিটি মুসলিমের, বিশেষ করে জ্ঞানীদের কর্তব্য।
  4. মিথ্যা কথা, মিথ্যা সাক্ষ্য এবং হারাম উপার্জন এমন গুরুতর পাপ যে, এগুলো থেকে বিরত রাখা আলিমদের অপরিহার্য দায়িত্ব। এই পাপগুলো সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
  5. যে সমাজে আলিম-উলামারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন না, সে সমাজে অন্যায় ও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে। তাই আমাদের উচিত অন্যায় দেখলে যথাসাধ্য প্রতিরোধ করা এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করা।


📜 আয়াত 61-65 — সূরা আল-মায়িদা

61وَإِذَا جَاءُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَقَد دَّخَلُوا بِالْكُفْرِ وَهُمْ قَدْ خَرَجُوا بِهِ ۚ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا يَكْتُمُونَ
যখন তারা তোমাদের কাছে আসে তখন বলে দাওঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অথচ তারা কুফর নিয়ে এসেছিল এবং কুফর নিয়েই প্রস্থান করেছে। তারা যা গোপন করত, আল্লাহ তা খুব জানেন।
62وَتَرَىٰ كَثِيرًا مِّنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আর আপনি তাদের অনেককে দেখবেন যে, দৌড়ে দৌড়ে পাপে, সীমালঙ্ঘনে এবং হারাম ভক্ষনে পতিত হয়। তারা অত্যন্ত মন্দ কাজ করছে।
63لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ
দরবেশ ও আলেমরা কেন তাদেরকে পাপ কথা বলতে এবং হারাম ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না? তারা খুবই মন্দ কাজ করছে।
64وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ ۚ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا ۘ بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ ۚ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۚ وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۚ كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِّلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ ۚ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا ۚ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
আর ইহুদীরা বলেঃ আল্লাহর হাত বন্ধ হয়ে গেছে। তাদেরই হাত বন্ধ হোক। একথা বলার জন্যে তাদের প্রতি অভিসম্পাত। বরং তাঁর উভয় হস্ত উম্মুক্ত। তিনি যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন। আপনার প্রতি পলনকর্তার পক্ষ থেকে যে কালাম অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর পরিবর্ধিত হবে। আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি। তারা যখনই যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ?482;িত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। তারা দেশে অশান্তি উৎপাদন করে বেড়ায়। আল্লাহ অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
65وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ
আর যদি আহলে-কিতাবরা বিশ্বাস স্থাপন করত এবং খোদাভীতি অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নেয়ামতের উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করতাম।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
63আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 63

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 63 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : দরবেশ ও আলেমরা কেন তাদেরকে পাপ কথা বলতে এবং হারাম…

সূরা আয়াত 63/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 61–65. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না