Wa maaa afaaa`al laahu `alaaa Rasoolihee minhum famaaa awjaftum `alaihi min khailiinw wa laa rikaabinw wa laakinnal laaha yusallitu Rusulahoo `alaa many yashaaa`; wallaahu `alaa kulli shai`in Qadeer
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(तो) जो माल ख़ुदा ने अपने रसूल को उन लोगों से बे लड़े दिलवा दिया उसमें तुम्हार हक़ नहीं क्योंकि तुमने उसके लिए कुछ दौड़ धूप तो की ही नहीं, न घोड़ों से न ऊँटों से, मगर ख़ुदा अपने पैग़म्बरों को जिस पर चाहता है ग़लबा अता फरमाता है और ख़ुदा हर चीज़ पर क़ादिर है
আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَفَاءَ (আফাআ): ফিরিয়ে দেওয়া, দান করা। এখানে যুদ্ধ ছাড়াই শত্রুর কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে বোঝানো হয়েছে, যাকে 'ফাই' বলা হয়।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে, বনু নাযির গোত্রের যে সম্পদ তিনি তাঁর রাসূল (সা.)-কে দান করেছেন, তা তোমরা কোনো ঘোড়া বা উটে চড়ে যুদ্ধ করে অর্জন করনি। অর্থাৎ, এই সম্পদ লাভের জন্য তোমাদের কোনো কষ্ট, পরিশ্রম বা যুদ্ধ করতে হয়নি। বরং আল্লাহ তা-ই তাঁর রাসূলদের ওপর ক্ষমতা দেন যাকে তিনি চান, এবং শত্রুদের অন্তরে ভয় ঢেলে দিয়ে তাদের সম্পদ রাসূলের হাতে তুলে দেন, যাতে কোনো রক্তপাত ছাড়াই তা অর্জিত হয়। বনু নাযিরের ঘটনায়ও তাই ঘটেছিল—তারা দুর্গে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাদের অন্তরে ভয় সঞ্চার করলেন এবং তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলো। আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান; তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই ঘটে না। তিনি চাইলে যুদ্ধ ছাড়াই শত্রুদের পরাজিত করেন, আবার চাইলে যুদ্ধের মাধ্যমেও বিজয় দেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহই সকল ক্ষমতার মালিক। তিনি যেভাবে চান, বিজয় দান করেন—কখনো যুদ্ধের মাধ্যমে, কখনো বিনা যুদ্ধে। তাই মুমিনের উচিত সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
ইসলামে সম্পদ অর্জনের বৈধ পথ রয়েছে। যুদ্ধ ছাড়া শত্রুদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ রাসূল (সা.)-এর জন্য নির্ধারিত ছিল, যা তিনি উম্মতের কল্যাণে ব্যয় করতেন। এটি ইসলামের ন্যায়বিচার ও ব্যবস্থাপনার পরিচয় বহন করে।
আল্লাহ তাঁর রাসূলদের বিশেষ সাহায্য দিয়ে থাকেন, যা সাধারণ মানুষের চেষ্টা-সাধনার বাইরে। এটি প্রমাণ করে যে, দ্বীনের কাজে সাফল্য আল্লাহর ইচ্ছা ও সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
মুসলিমদের উচিত আল্লাহর অনুগ্রহ ও দানকে স্মরণ করা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কারণ, আল্লাহ যাকে চান অগণিত নিয়ামত দান করেন, আর তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন।
এই আয়াত মুমিনদের মনে সাহস ও আস্থা সৃষ্টি করে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পক্ষে থাকলে কোনো শক্তিই তাদের পরাজিত করতে পারবে না, এমনকি বিনা যুদ্ধেও শত্রুরা নতজানু হয়ে যেতে বাধ্য হবে।
আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।