Wa jaawaznaa bi Banneee Israaa`eelal bahra fa ataw `alaa qawminy ya`kufoona `alaaa asnaamil lahum; qaaloo yaa Moosaj`al lanaa ilaahan kamaa lahum aalihah; qaala innakum qawmun tajhaloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী-ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हमने बनी ईसराइल को दरिया के उस पार उतार दिया तो एक ऐसे लोगों पर से गुज़रे जो अपने (हाथों से बनाए हुए) बुतों की परसतिश पर जमा बैठे थे (तो उनको देख कर बनी ईसराइल से) कहने लगे ऐ मूसा जैसे उन लोगों के माबूद (बुत) हैं वैसे ही हमारे लिए भी एक माबूद बनाओ मूसा ने जवाब दिया कि तुम लोग जाहिल लोग हो
বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী-ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
جَاوَزْنَا অর্থ: আমরা পার করিয়েছি, অতিক্রম করিয়েছি।
يَعْكُفُونَ অর্থ: তারা অবস্থান করছে, নিবিষ্ট রয়েছে (ইবাদতের জন্য)।
أَصْنَامٍ অর্থ: মূর্তি, প্রতিমা।
إِلَـهًا অর্থ: উপাস্য, ইলাহ।
تَجْهَلُونَ অর্থ: তোমরা অজ্ঞ, মূর্খতা করছ।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে মিসর থেকে বের করে আনেন এবং সমুদ্র পার করিয়ে দেন। মূসা (আ.)当其 লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করলে সমুদ্র বিভক্ত হয়ে যায় এবং বনি ইসরাঈল শুকনো পথে পার হয়ে যায়। এরপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যারা মূর্তি পূজায় নিবিষ্ট ছিল — তারা বিভিন্ন মূর্তির সামনে অবস্থান করে সেগুলোর ইবাদত করত। এই দৃশ্য দেখে বনি ইসরাঈলের কিছু লোক মূসা (আ.)-এর কাছে আবেদন করল: “হে মূসা! আমাদের জন্যও এমন একটি উপাস্য বানিয়ে দাও, যেমন তাদের উপাস্য রয়েছে।” অর্থাৎ তারা এমন একটি মূর্তি চাইল যা তারা পূজা করতে পারবে।
মূসা (আ.) তাদের এই অজ্ঞতাপূর্ণ প্রস্তাব শুনে অত্যন্ত বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন: “তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ!” অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর মর্যাদা ও একত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তোমরা কি বুঝতে পারছ না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই? তিনি একক, অদ্বিতীয়, সর্বশক্তিমান। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। মূর্তি বা প্রতিমা তো নিছক পাথর বা কাঠের তৈরি বস্তু — তারা কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। তাদের ইবাদত করা সম্পূর্ণ ভুল ও শিরক। মূসা (আ.) তাদের এই চাওয়াকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের অজ্ঞতা ও মূর্খতার জন্য ভর্ৎসনা করেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলার একত্ব (তাওহিদ) ইসলামের মূল ভিত্তি। কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না — এমনকি অন্য জাতির দেখাদেখি বা অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমেও নয়।
মুমিনের উচিত অন্য জাতির রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অন্ধভাবে অনুকরণ না করা। বনি ইসরাঈল মুশরিকদের দেখে মূর্তি পূজা চেয়েছিল, কিন্তু নবী তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
নবী-রাসূলগণ শিরক ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তারা কোনো প্রকার আপস করেননি, এমনকি নিজ জাতির লোকদের চাওয়া হলেও।
মানুষের প্রকৃত জ্ঞান হলো আল্লাহকে চেনা এবং তাঁর ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া। যারা আল্লাহর মর্যাদা বুঝে না, তারা অজ্ঞ — চাই তারা কত বড় জ্ঞানী হোক না কেন।
এই ঘটনা থেকে আমরা শিখি যে, বিপদ থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত, অন্য জাতির বাতিল রীতিতে আকৃষ্ট হওয়া নয়। বনি ইসরাঈল সমুদ্র পার হয়ে আল্লাহর অসীম কুদরত দেখার পরও মূর্তি পূজা চেয়েছিল — এটি ছিল তাদের অকৃতজ্ঞতা ও অজ্ঞতার পরিচয়।
সুতরাং আমি তাদের কাছে থেকে বদলা নিয়ে নিলাম-বস্তুতঃ তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল আমার নিদর্শনসমূহকে এবং তৎপ্রতি অনীহা প্রদর্শন করেছিল।
আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী-ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল।
বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী-ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।