Wa quli`maloo fasayaral laahu `amalakum wa Rasooluhoo walmu`minoona wa saturaddoona ilaa `Aalimil Ghaibi washshahaadati fa yunabbi`ukum bimaa kuntum ta`maloon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে আল্লাহ দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীগ্রই প্রত্যাবর্তিত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তারপর তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ रसूल) तुम कह दो कि तुम लोग अपने अपने काम किए जाओ अभी तो ख़ुदा और उसका रसूल और मोमिनीन तुम्हारे कामों को देखेगें और बहुत जल्द (क़यामत में) ज़ाहिर व बातिन के जानने वाले (ख़ुदा) की तरफ लौटाए जाऎंगे तब वह जो कुछ भी तुम करते थे तुम्हें बता देगा
আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে আল্লাহ দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীগ্রই প্রত্যাবর্তিত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তারপর তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اعْمَلُوا – তোমরা কাজ করো (সৎকর্ম বা অসৎকর্ম যা ইচ্ছা)।
فَسَيَرَى – অতঃপর শীঘ্রই দেখবেন।
الْمُؤْمِنُونَ – ঈমানদারগণ (মুমিনগণ)।
تُرَدُّونَ – তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ – দৃশ্য ও অদৃশ্য সকল বিষয়ের জ্ঞানী (আল্লাহ)।
فَيُنَبِّئُكُم – অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! যারা জিহাদ থেকে পিছিয়ে ছিল এবং যারা নিজেদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়েছে, তাদেরকে বলুন: “তোমরা যা ইচ্ছা কাজ করতে থাকো।” অর্থাৎ, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সৎকর্ম করো, তাঁর আদেশ পালন করো, নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকো, অথবা তোমাদের ইচ্ছামতো অন্য কিছু করো। কিন্তু জেনে রাখো, তোমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ দেখতে পাবেন। তোমাদের কোনো কাজই গোপন থাকবে না—ভালো হোক বা মন্দ। দুনিয়ায় তোমাদের অবস্থা প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং মানুষ জানতে পারবে কে সত্যিকার অর্থে ঈমানদার ও সৎকর্মপরায়ণ, আর কে কপট ও অসৎ।
এরপর তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন সেই আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য, গোপন ও প্রকাশ্য—সবকিছু সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দুনিয়ার সমস্ত কাজের খবর দেবেন এবং প্রতিটি কাজের যথাযথ প্রতিদান দেবেন। ভালো কাজের জন্য ভালো প্রতিদান, আর মন্দ কাজের জন্য মন্দ শাস্তি। এটি তাদের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা, যারা অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত রয়েছে, এবং একটি সান্ত্বনা ও সুসংবাদ তাদের জন্য, যারা তাওবা করে নিজেদের জীবন সংশোধন করতে চায়।
ফায়দা (উপকারিতা ও শিক্ষা):
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলাম কর্মমুখী জীবনকে উৎসাহিত করে। মানুষকে অলস ও নিষ্ক্রিয় থাকতে বলে না; বরং ভালো কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নজরে রয়েছে। তিনি ছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং মুমিনগণ আমাদের কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই আমাদের উচিত এমন কাজ করা যা তাদের সামনে লজ্জার নয়, বরং গর্বের।
এই আয়াত তাওবার দরজা খোলা রাখে। যারা অতীতে ভুল করেছে, তারা যদি এখন সৎকাজ শুরু করে, তবে আল্লাহ তাদের কাজ দেখবেন এবং তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে দেবেন।
কিয়ামতের বিশ্বাস আমাদের জীবনে দায়বোধ তৈরি করে। আমরা জানি যে, একদিন আমাদের সকল কাজের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস মানুষকে অন্যায়, প্রতারণা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবন গড়তে সাহায্য করে।
এটি মুমিনদের জন্য একটি সুসংবাদ যে, তাদের ভালো কাজ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে পড়বে এবং তারা মুমিনদের মধ্যে সম্মানিত হবে। অন্যদিকে, মন্দ কাজকারীদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে, তাদের কপটতা ও মন্দ কাজ একদিন প্রকাশ হয়ে যাবে।
তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপ। বস্তুতঃ আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, জানেন।
আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে আল্লাহ দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীগ্রই প্রত্যাবর্তিত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তারপর তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে।
আবার অনেক লোক রয়েছে যাদের কাজকর্ম আল্লাহর নির্দেশের উপর স্থগিত রয়েছে; তিনি হয় তাদের আযাব দেবেন না হয় তাদের ক্ষমা করে দেবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জ্ঞাত, বিজ্ঞতাসম্পন্ন।
আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।