আত-তওবা · 13/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۝١٣
Alaa tuqaatiloona qawman nakasooo aimaanahum wa hammoo bi ikhraajir Rasooli wa hum bada`ookum awwala marrah; atakhshawnahum; fallaahu ahaqqu an takhshawhu in kuntum mu`mineen
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • নাকাসু আইমানাহুম (নَكَثُوا أَيْمَانَهُمْ): তারা তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
  • হাম্মু (هَمُّوا): তারা সংকল্প করেছিল, ইচ্ছা পোষণ করেছিল।
  • বাদাঊকুম (بَدَءُوكُمْ): তারা তোমাদের বিরুদ্ধে প্রথমে শুরু করেছিল।
  • আতাখশাওনাহুম (أَتَخْشَوْنَهُمْ): তোমরা কি তাদের ভয় করছ?

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! তোমরা কেন সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের অঙ্গীকার ও চুক্তি বারবার ভঙ্গ করেছে? তারা মক্কায় অবস্থানকালে ষড়যন্ত্র করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মক্কা থেকে বের করে দেওয়ার সংকল্প করেছিল। তারা দারুন নাদওয়ায় জমায়েত হয়ে এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছিল। শুধু তাই নয়, তারা প্রথমে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। বদর যুদ্ধের সময় যখন তাদের ব্যবসায়িক কাফেলা নিরাপদে চলে যায়, তখন তারা বলেছিল, আমরা ফিরে যাব না যতক্ষণ না মুহাম্মদ (সা.) ও তার সাহাবাদের নিশ্চিহ্ন করি। তারা কুরাইশের মিত্র বনু বকরকে উৎসাহিত করেছিল রাসূল (সা.)-এর মিত্র খুযাআ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। অর্থাৎ তারা প্রতিটি ক্ষেত্রেই শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছে।

তোমরা কি তাদের ভয় করছ? অথচ আল্লাহই তোমাদের ভয় করার সবচেয়ে বেশি হকদার! যদি তোমরা সত্যিকারের মুমিন হয়ে থাকো, তাহলে আল্লাহকে ভয় করো এবং তার আদেশ পালন করো। আল্লাহর ভয়ই তোমাদেরকে সাহস ও শক্তি দেবে শত্রুর মোকাবিলা করার। আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন তোমাদের সাথে আছে, তাই তোমাদের ভয় করা উচিত নয়।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. শত্রুর সাথে মোকাবিলায় সাহসিকতা ও দৃঢ়তা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সত্যের পথে লড়াই করলে আল্লাহর সাহায্য নিশ্চিত।
  2. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। মুমিনদের উচিত অঙ্গীকার রক্ষা করা।
  3. আল্লাহর ভয়ই প্রকৃত ভয়। মানুষের ভয় আল্লাহর ভয়ের তুলনায় গুরুত্বহীন। যে আল্লাহকে ভয় করে, সে কোনো মানুষের ভয়ে পিছপা হয় না।
  4. ইসলাম শান্তিপ্রিয়, কিন্তু অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা এবং শত্রুর মোকাবিলা করা মুমিনের দায়িত্ব। যারা চুক্তি ভঙ্গ করে এবং মুসলিমদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের পথে থাকলে আল্লাহর সাহায্য আমাদের সাথে থাকে, তাই কোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের ভয় পেয়ে দুর্বল হওয়া উচিত নয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 11-15 — আত-তওবা

11فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি।
12وَإِن نَّكَثُوا أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ ۙ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ
আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে।
13أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও।
14قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।
15وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ ۗ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবে, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 13

সূরা আত-তওবা আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ…

সূরা আয়াত 13/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না