সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা-বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান-খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্দ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। আল্লাহ তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जो लोग दिल खोलकर ख़ैरात करने वाले मोमिनीन पर (रियाकारी का) और उन मोमिनीन पर जो सिर्फ अपनी शफ़क़क़्त (मेहनत) की मज़दूरी पाते (शेख़ी का) इल्ज़ाम लगाते हैं फिर उनसे मसख़रापन करते तो ख़ुदा भी उन से मसख़रापन करेगा और उनके लिए दर्दनाक अज़ाब है
সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা-বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান-খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্দ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। আল্লাহ তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَلْمِزُونَ – দোষারোপ করা, ত্রুটি খোঁজা, কটাক্ষ করা।
الْمُطَّوِّعِينَ – যারা স্বেচ্ছায় (ফরজের অতিরিক্ত) দান-সদকা করে।
جُهْدَهُمْ – তাদের সামর্থ্য, সাধ্য, যা তারা পারে।
يَسْخَرُونَ – উপহাস করা, বিদ্রূপ করা।
سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ – আল্লাহ তাদের উপহাস করেছেন (অর্থাৎ, তাদের কর্মের শাস্তি হিসেবে তাদেরকে অপদস্থ করবেন এবং তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের প্রতিদান দেবেন)।
তাফসির:
এই আয়াতে মুনাফিকদের একটি ঘৃণ্য চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তারা মুমিনদের দান-সদকা নিয়ে নানা রকম কটাক্ষ ও বিদ্রূপ করত। যখন ধনী মুমিনরা বেশি পরিমাণে দান করত, তখন মুনাফিকরা বলত, “এরা তো শুধু লোক দেখানোর জন্যই দান করছে!” আর যখন গরিব মুমিনরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প পরিমাণে দান করত, তখন তারা উপহাস করে বলত, “এত সামান্য দানে কী হবে? আল্লাহর কী দরকার এত অল্প বস্তুর?” — এভাবে তারা উভয় শ্রেণির মুমিনকেই ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র বানাত।
আল্লাহ তাআলা এখানে স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, দান-সদকার মূল্য তার পরিমাণে নয়, বরং নিয়ত ও আন্তরিকতায়। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে, তার সামান্য দানও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। পক্ষান্তরে, যারা মুমিনদের এই পবিত্র কাজকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি তার প্রতিদান দেবেন — অর্থাৎ, তাদেরকে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করবেন, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এটি তাদের কুফরি ও মুনাফিকির কারণে।
শিক্ষা ও ফায়দা:
দান-সদকার প্রকৃত মূল্য আল্লাহর কাছে পরিমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং নিয়তের খোলাসা ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাই অল্প দান করেও কেউ আল্লাহর কাছে বিশাল মর্যাদা পেতে পারে, যদি তা হয় খাঁটি নিয়তে।
মুমিনের কর্তব্য কাউকে তার দান-সদকার জন্য হেয় না করা, বরং উৎসাহিত করা। ইসলামে কাউকে উপহাস করা, বিশেষত সৎকাজের জন্য, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি মুনাফিকের আলামত।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি, মানুষের কথা বা সমালোচনা যেন আমাদের সৎকাজ থেকে বিরত না রাখে। ধনী হোক বা গরিব, প্রত্যেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান করবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিই হবে তার লক্ষ্য।
আল্লাহর দরবারে ন্যায়বিচার নিখুঁত — যে যেমন করবে, তার প্রতিদান পাবে। যারা মুমিনদের নিয়ে ঠাট্টা করে, তাদের জন্য রয়েছে অপমান ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, আর যারা আন্তরিকভাবে দান করে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা।
তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তার তাঁর সাথে গিয়ে মিলবে। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো।
সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা-বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান-খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্দ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। আল্লাহ তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ না-ফারমানদেরকে পথ দেখান না।
পেছনে থেকে যাওয়া লোকেরা আল্লাহর রসূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে থাকতে পেরে আনন্দ লাভ করেছে; আর জান ও মালের দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করতে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।