Maaa ash hattuhum khalqas samaawaati wal ardi wa laa khalqa anfusihim wa maa kuntu muttakizal mudilleena `adudaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
मैने न तो आसमान व ज़मीन के पैदा करने के वक्त उनको (मदद के लिए) बुलाया था और न खुद उनके पैदा करने के वक्त अौर मै (ऐसा गया गुज़रा) न था कि मै गुमराह करने वालों को मददगार बनाता
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مَا أَشْهَدتُّهُمْ – আমি তাদের উপস্থিত রাখিনি, তাদের সাক্ষী করিনি।
خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ – আসমান ও জমিন সৃষ্টি।
أَنفُسِهِمْ – তাদের নিজেদের (সৃষ্টি)।
الْمُضِلِّينَ – যারা পথভ্রষ্টকারী (শয়তান ও তাদের অনুসারী)।
عَضُدًا – সাহায্যকারী, সহায়, শক্তি।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এখানে মুশরিকদের সে ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করছেন, যারা শয়তান ও তাদের অনুসারীদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক বানিয়ে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত এবং তাদেরকে নিজেদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করত। আল্লাহ বলছেন: আমি যখন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছি, তখন আমি শয়তান বা তাদের বংশধরদেরকে সেখানে উপস্থিত রাখিনি, তাদেরকে সাক্ষী বানাইনি, আর তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়ও তাদেরকে ডাকিনি। বরং আমি একাই সবকিছু সৃষ্টি করেছি—কোনো সাহায্যকারী, কোনো সহায়, কোনো পরামর্শদাতা ছাড়া। আমি কখনো এমনও করিনি যে, যারা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে, তাদেরকে আমার সহায় বা শক্তি বানাবো। আমি তো সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, আমার কোনো সহায়ের প্রয়োজনই নেই।
তাহলে তোমরা কীভাবে আমার ইবাদত ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে বন্ধু বানাচ্ছ, যারা আমার সৃষ্টির কাজে কোনো অংশই রাখে না? তারা তো তোমাদেরই মতো দুর্বল সৃষ্টি। তারা না আসমান-জমিন সৃষ্টিতে ছিল, না নিজেদের সৃষ্টিতেও তাদের কোনো হাত ছিল। তারা তো ছিলই না তখন। আল্লাহ একাই সব সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সবকিছুর ব্যবস্থাপক। তিনি কোনো পথভ্রষ্টকারীকে কখনো তাঁর সহায় বানাননি—এটা তাঁর পবিত্র সত্তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ একক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর সৃষ্টি ও পরিচালনায় কারো অংশীদারিত্ব নেই, কারো সাহায্যের প্রয়োজনও নেই। তাই তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা চরম অন্যায় ও অজ্ঞতা।
শয়তান ও তার দলবল অত্যন্ত দুর্বল ও অসহায়। তারা আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কাজেই অংশ নেয়নি, ফলে তাদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা বা তাদের ভয় করা সম্পূর্ণ ভুল।
মানুষ যেন কখনো এমন ব্যক্তিদের অনুসরণ না করে বা তাদের কাছে সাহায্য না চায়, যারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্ট করে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী ও অভিভাবক।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের উপকার বা অপকার করতে পারে না।
মুমিনের উচিত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা, কারণ শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।