আল-কাহফ · 51/110
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-কাহফ
۞ مَّا أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا ۝٥١
Maaa ash hattuhum khalqas samaawaati wal ardi wa laa khalqa anfusihim wa maa kuntu muttakizal mudilleena `adudaa
📖 বাংলা অর্থ
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مَا أَشْهَدتُّهُمْ – আমি তাদের উপস্থিত রাখিনি, তাদের সাক্ষী করিনি।
  • خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ – আসমান ও জমিন সৃষ্টি।
  • أَنفُسِهِمْ – তাদের নিজেদের (সৃষ্টি)।
  • الْمُضِلِّينَ – যারা পথভ্রষ্টকারী (শয়তান ও তাদের অনুসারী)।
  • عَضُدًا – সাহায্যকারী, সহায়, শক্তি।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এখানে মুশরিকদের সে ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করছেন, যারা শয়তান ও তাদের অনুসারীদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক বানিয়ে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত এবং তাদেরকে নিজেদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করত। আল্লাহ বলছেন: আমি যখন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছি, তখন আমি শয়তান বা তাদের বংশধরদেরকে সেখানে উপস্থিত রাখিনি, তাদেরকে সাক্ষী বানাইনি, আর তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়ও তাদেরকে ডাকিনি। বরং আমি একাই সবকিছু সৃষ্টি করেছি—কোনো সাহায্যকারী, কোনো সহায়, কোনো পরামর্শদাতা ছাড়া। আমি কখনো এমনও করিনি যে, যারা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে, তাদেরকে আমার সহায় বা শক্তি বানাবো। আমি তো সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, আমার কোনো সহায়ের প্রয়োজনই নেই।

তাহলে তোমরা কীভাবে আমার ইবাদত ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে বন্ধু বানাচ্ছ, যারা আমার সৃষ্টির কাজে কোনো অংশই রাখে না? তারা তো তোমাদেরই মতো দুর্বল সৃষ্টি। তারা না আসমান-জমিন সৃষ্টিতে ছিল, না নিজেদের সৃষ্টিতেও তাদের কোনো হাত ছিল। তারা তো ছিলই না তখন। আল্লাহ একাই সব সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সবকিছুর ব্যবস্থাপক। তিনি কোনো পথভ্রষ্টকারীকে কখনো তাঁর সহায় বানাননি—এটা তাঁর পবিত্র সত্তার সম্পূর্ণ বিপরীত।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ একক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর সৃষ্টি ও পরিচালনায় কারো অংশীদারিত্ব নেই, কারো সাহায্যের প্রয়োজনও নেই। তাই তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা চরম অন্যায় ও অজ্ঞতা।
  2. শয়তান ও তার দলবল অত্যন্ত দুর্বল ও অসহায়। তারা আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কাজেই অংশ নেয়নি, ফলে তাদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা বা তাদের ভয় করা সম্পূর্ণ ভুল।
  3. মানুষ যেন কখনো এমন ব্যক্তিদের অনুসরণ না করে বা তাদের কাছে সাহায্য না চায়, যারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্ট করে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী ও অভিভাবক।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের উপকার বা অপকার করতে পারে না।
  5. মুমিনের উচিত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা, কারণ শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 49-53 — আল-কাহফ

49وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
50وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ ۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ۚ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।
51۞ مَّا أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
52وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَائِيَ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا
যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।
53وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُم مُّوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا
অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।
আল-কাহফকুরআন সূচী
110আয়াত
মাক্কীRevelation
51আয়াত

অনুবাদ — আল-কাহফ 51

সূরা আল-কাহফ আয়াত 51 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের…

সূরা আয়াত 51/110 — আল-কাহফ الكهف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-কাহফ শুনুন, আল-কাহফ অনুবাদ, আল-কাহফ mp3, আল-কাহফ pdf. আয়াত 49–53. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না