Wa izis tasqaa Moosaa liqawmihee faqulnad rib bi`asaakal hajara fanfajarat minhusnataaa `ashrata `aynan qad `alima kullu unaasim mash rabahum kuloo washraboo mir rizqil laahi wa laa ta`saw fil ardi mufsideen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (वह वक्त भी याद करो) जब मूसा ने अपनी क़ौम के लिए पानी माँगा तो हमने कहा (ऐ मूसा) अपनी लाठी पत्थर पर मारो (लाठी मारते ही) उसमें से बारह चश्में फूट निकले और सब लोगों ने अपना-अपना घाट बखूबी जान लिया और हमने आम इजाज़त दे दी कि खुदा की दी हुईरोज़ी से खाओ पियो और मुल्क में फसाद न करते फिरो
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اسْتَسْقَى — পানি প্রার্থনা করা, পানি চাওয়া।
الْحَجَرَ — নির্দিষ্ট একটি পাথর।
فَانفَجَرَتْ — প্রবলভাবে প্রবাহিত হলো, ফেটে পানি বের হলো।
عَيْنًا — পানির ঝরনা/প্রস্রবণ।
مَّشْرَبَهُمْ — তাদের পান করার স্থান।
تَعْثَوْا — বিপর্যয় সৃষ্টি করা, দাঙ্গা-ফাসাদ করা।
তাফসীর:
স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় প্রান্তরে (তীহ প্রান্তরে) তীব্র পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছিল। তারা মূসা (আঃ)-এর কাছে পানি প্রার্থনার আবেদন জানালে তিনি আল্লাহর দরবারে কাতরভাবে প্রার্থনা করেন। তখন আল্লাহ তাকে নির্দেশ দেন, “তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।” মূসা (আঃ) তা করতেই অলৌকিকভাবে সেই পাথর থেকে বারোটি ঝরনা প্রবলভাবে ফেটে বেরিয়ে এলো। তাদের বারোটি গোত্র ছিল, তাই প্রতিটি গোত্রের জন্য নির্ধারিত করে দেওয়া হলো আলাদা একটি ঝরনা, যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘাট থেকে পানি পান করে এবং এ নিয়ে কারও মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা ঝগড়া না হয়। আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে খাও ও পান করো, কিন্তু পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।” অর্থাৎ আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করো না, অকৃতজ্ঞ হয়ো না এবং তাঁর বিধান লঙ্ঘন করে অন্যায় ও ফাসাদ ছড়িয়ো না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
বিপদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাই মুমিনের প্রধান অবলম্বন। মূসা (আঃ) যখন প্রার্থনা করলেন, আল্লাহ সাথে সাথে সাড়া দিলেন।
আল্লাহর কুদরতের কোনো সীমা নেই। একটি সাধারণ লাঠির আঘাতে পাথর থেকে বারোটি ঝরনা প্রবাহিত হওয়া প্রমাণ করে যে, আল্লাহ যাকে চান তাকে অগণিত নিয়ামত দিতে পারেন।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা করে দেন। বারোটি গোত্রের জন্য আলাদা আলাদা ঝরনা নির্ধারণ করে তিনি শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার শিখিয়েছেন।
আল্লাহর দেওয়া রিজিক খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং জমিনে ফাসাদ-অশান্তি না ছড়ানো মুমিনের কর্তব্য। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ আরও বাড়িয়ে দেন, আর অকৃতজ্ঞতা ও ফাসাদ নিয়ামত ধ্বংস করে।
আর যখন আমি বললাম, তোমরা প্রবেশ কর এ নগরীতে এবং এতে যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাক এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদা করে ঢুক, আর বলতে থাক-‘আমাদিগকে ক্ষমা করে দাও’-তাহলে আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব।
অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে।
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না।
আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য-দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ। আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী।
নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।