ত্ব-হা · 125/135
অনুবাদ উচ্চারণ — ত্ব-হা
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَىٰ وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا ۝١٢٥
Qaala Rabbi lima hashar tanee a`maa wa qad kuntu baseeraa
📖 বাংলা অর্থ
সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • حَشَرْتَنِي = আমাকে একত্র করেছ / সমবেত করেছ (কিয়ামতের ময়দানে)।
  • أَعْمَى = অন্ধ (এখানে দৃষ্টিশক্তিহীন বা প্রমাণ-প্রতিষ্ঠার দিক থেকে অন্ধ)।
  • بَصِيرًا = চক্ষুষ্মান / দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন (দুনিয়াতে)।

তাফসীর:

আয়াতটি কিয়ামতের ময়দানের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত। যারা দুনিয়ায় আল্লাহর জিকির ও তাঁর নিদর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবে। তখন সে ব্যক্তি বিস্মিত ও আফসোস করে বলবে, “হে আমার রব! আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো দুনিয়াতে চোখওয়ালা (দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন) ছিলাম!”

এখানে দুটি অর্থ হতে পারে:

  1. প্রকৃত অর্থে সে দুনিয়াতে চোখে দেখতে পেত, কিন্তু আখিরাতে তাকে অন্ধ করে উঠানো হবে, যেমনটি অন্য আয়াতে বলা হয়েছে (সূরা বনী ইসরাঈল: ৯৭)।
  2. অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে ‘অন্ধ’ অর্থ প্রমাণ ও হুজ্জতের দিক থেকে অন্ধ, অর্থাৎ তার কাছে কোনো ওজর-আপত্তি পেশ করার সুযোগ থাকবে না। দুনিয়াতে সে সুস্থ দৃষ্টি ও বুদ্ধি-বিবেক পেয়েছিল, কিন্তু তা দিয়ে সত্য উপলব্ধি করেনি; তাই আখিরাতে তার জন্য কোনো অজুহাত নেই।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর জিকির ও কুরআন থেকে বিমুখ হওয়ার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ — আখিরাতে চরম লাঞ্ছনা ও অন্ধত্ব।
  2. দুনিয়ার চোখ থাকা প্রকৃত দৃষ্টি নয়; প্রকৃত দৃষ্টি হলো অন্তরের চোখ দিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করা। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সত্য দেখতে পায়নি, আখিরাতেও তার অবস্থা অন্ধের মতো হবে।
  3. কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষ নিজের কৃতকর্মের হিসাব দেবে এবং তখন কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত (চোখ, বুদ্ধি, বিবেক) ব্যবহার করে আল্লাহকে চেনা এবং তাঁর আদেশ পালন করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য; অন্যথায় আফসোস তখনই করবে, যখন তা আর কাজে আসবে না।
  5. ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সফলতা হলো আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ; আর ব্যর্থতা হলো আল্লাহর শাস্তি ও লাঞ্ছনার সম্মুখীন হওয়া।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 123-127 — ত্ব-হা

123قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَىٰ
তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়েই এখান থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ঠ হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।
124وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَىٰ
এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।
125قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَىٰ وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا
সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।
126قَالَ كَذَٰلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا ۖ وَكَذَٰلِكَ الْيَوْمَ تُنسَىٰ
আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।
127وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِن بِآيَاتِ رَبِّهِ ۚ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَىٰ
এমনিভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেব, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না করে। তার পরকালের শাস্তি কঠোরতর এবং অনেক স্থায়ী।
ত্ব-হাকুরআন সূচী
135আয়াত
মাক্কীRevelation
125আয়াত

অনুবাদ — ত্ব-হা 125

সূরা ত্ব-হা আয়াত 125 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত…

সূরা আয়াত 125/135 — ত্ব-হা طه (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ত্ব-হা শুনুন, ত্ব-হা অনুবাদ, ত্ব-হা mp3, ত্ব-হা pdf. আয়াত 123–127. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না