আল্লাহ তাআলা ইউনুস (আঃ)-এর দো‘আ কবুল করলেন এবং তাকে সেই ভয়ানক সংকট থেকে মুক্তি দিলেন—যে সংকটে তিনি মাছের পেটের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলেন। এটি ছিল তিনটি অন্ধকারের সমষ্টি: রাতের অন্ধকার, সমুদ্রের অন্ধকার এবং মাছের পেটের অন্ধকার। আল্লাহ তার দো‘আ কবুল করে তাকে এই ত্রিবিধ অন্ধকার থেকে বের করে আনলেন এবং সব দুশ্চিন্তা দূর করলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “এভাবেই আমি মুমিনদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।” অর্থাৎ, যে বান্দা সত্যিকারের ঈমানদার, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এবং বিপদে পড়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দো‘আ করে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন এবং তাকে সংকট থেকে উদ্ধার করেন। এটি আল্লাহর একটি চিরন্তন রীতি—যা কেবল ইউনুস (আঃ)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল না, বরং প্রতিটি মুমিনের জন্য প্রযোজ্য।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে দো‘আ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দো‘আ শোনেন এবং যারা তাঁর ওপর ভরসা করে তাদের সংকট থেকে উদ্ধার করেন।
এই আয়াত মুমিনদের জন্য আশার বাণী—যত বড় সংকটই হোক না কেন, আল্লাহর রহমত সবকিছুকে অতিক্রম করতে পারে।
ঈমান ও আল্লাহর ওপর ভরসাই হলো বিপদমুক্তির মূল চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, আল্লাহ তাকে কখনো একা ছাড়েন না।
দো‘আ হলো মুমিনের অস্ত্র; বিপদ-আপদে দো‘আ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজাত পাওয়া যায়।
এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার।
অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।