আন-নামল · 9/93
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নামল
يَا مُوسَىٰ إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ۝٩
Yaa Moosaaa innahooo Anal laahul `Azeezul Hakeem
📖 বাংলা অর্থ
হে মূসা, আমি আল্লাহ, প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْعَزِيزُ – পরাক্রমশালী, যিনি অপরাজেয়, যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না।
  • الْحَكِيمُ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞার সাথে করেন।

তাফসীর:

হে মূসা (আঃ)! নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ। আমি সেই সত্তা, যিনি একক, যাঁর কোনো শরীক নেই। আমিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। আমি আল-আযীয অর্থাৎ পরাক্রমশালী, আমার ক্ষমতার সামনে কেউ দাঁড়াতে পারে না, আমার প্রতিশোধ থেকে কেউ রক্ষা পায় না। আমি আল-হাকীম অর্থাৎ প্রজ্ঞাময়, আমার সৃষ্টি, পরিচালনা, বিধান ও আদেশ-নিষেধের প্রতিটি বিষয় গভীর প্রজ্ঞা ও নিখুঁত পরিকল্পনার ভিত্তিতে।

যখন মূসা (আঃ) দূর থেকে আগুন দেখে তার কাছে এলেন, তখন আল্লাহ তাকে সম্বোধন করে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এটি ছিল তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলার সূচনা এবং তাকে রিসালাতের (নবুওয়াতের) জন্য প্রস্তুত করার প্রথম ধাপ। এই পরিচয়ের মাধ্যমে আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে জানিয়ে দিলেন যে, যিনি তাকে ডাকছেন তিনি কোনো সাধারণ সত্তা নন, বরং তিনি হলেন সেই মহান স্রষ্টা, যাঁর ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা অসীম।

এই আয়াতে আল্লাহ নিজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ উল্লেখ করেছেন—আযীয (পরাক্রমশালী) ও হাকীম (প্রজ্ঞাময়)। এর মাধ্যমে তিনি মূসা (আঃ)-কে সাহস ও আত্মবিশ্বাস দান করলেন, যেন তিনি ফিরআউনের মতো শক্তিশালী ও অত্যাচারী শাসকের সামনে নির্ভীকভাবে দাঁড়াতে পারেন। কারণ, আল্লাহর শক্তি ও প্রজ্ঞা থাকতে কোনো কিছুর ভয় নেই।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই তাঁর বান্দাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। বান্দা যখন আল্লাহকে চিনে, তখন তার অন্তরে শান্তি ও সাহস সৃষ্টি হয়।
  2. আল্লাহর গুণাবলী জানা মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ, আল্লাহকে যত বেশি জানা যাবে, তাঁর প্রতি তত বেশি ভালোবাসা ও ভক্তি জন্মাবে।
  3. আল-আযীয হওয়ার অর্থ হলো—দুনিয়ার কোনো শক্তি, কোনো শাসক বা কোনো ব্যবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না। তাই মুমিনের উচিত শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
  4. আল-হাকীম হওয়ার অর্থ হলো—আল্লাহ যা কিছু করেন বা নির্দেশ দেন, তার প্রতিটির মধ্যে কল্যাণ ও প্রজ্ঞা নিহিত। এমনকি কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর সিদ্ধান্তের মধ্যে মঙ্গল রয়েছে।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর পথে কাজ করতে গেলে ভয় পাওয়া উচিত নয়। যিনি আল্লাহর ওপর নির্ভর করেন, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 7-11 — আন-নামল

7إِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ نَارًا سَآتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ آتِيكُم بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ
যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ আমি অগ্নি দেখেছি, এখন আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোন খবর আনতে পারব অথবা তোমাদের জন্যে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
8فَلَمَّا جَاءَهَا نُودِيَ أَن بُورِكَ مَن فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন আওয়াজ হল ধন্য তিনি, যিনি আগুনের স্থানে আছেন এবং যারা আগুনের আশেপাশে আছেন। বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।
9يَا مُوسَىٰ إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হে মূসা, আমি আল্লাহ, প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
10وَأَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّىٰ مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَا مُوسَىٰ لَا تَخَفْ إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ
আপনি নিক্ষেপ করুন আপনার লাঠি। অতঃপর যখন তিনি তাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখলেন, তখন তিনি বিপরীত দিকে ছুটতে লাগলেন এবং পেছন ফিরেও দেখলেন না। হে মূসা, ভয় করবেন না। আমি যে রয়েছি, আমার কাছে পয়গম্বরগণ ভয় করেন না।
11إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ
তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আন-নামলকুরআন সূচী
93আয়াত
মাক্কীRevelation
9আয়াত

অনুবাদ — আন-নামল 9

সূরা আন-নামল আয়াত 9 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে মূসা, আমি আল্লাহ, প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সূরা আয়াত 9/93 — আন-নামল النمل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নামল শুনুন, আন-নামল অনুবাদ, আন-নামল mp3, আন-নামল pdf. আয়াত 7–11. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না