Zaalika bi annahum qaaloo lan tamassanan naaru illaaa ayyaamam ma`doodaatinw wa gharrahum fee deenihim maa kaanoo yaftaroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ये इस वजह से है कि वह लोग कहते हैं कि हमें गिनती के चन्द दिनों के सिवा जहन्नुम की आग हरगिज़ छुएगी भी तो नहीं जो इफ़तेरा परदाज़ी ये लोग बराबर करते आए हैं उसी ने उन्हें उनके दीन में भी धोखा दिया है
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَن تَمَسَّنَا النَّارُ – আমাদেরকে আগুন স্পর্শ করবে না।
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ – কয়েকটি নির্দিষ্ট দিন।
وَغَرَّهُمْ – এবং তাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে / প্রতারিত করেছে।
يَفْتَرُونَ – তারা মিথ্যা রটনা করত / মনগড়া কথা বলত।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের) সত্য থেকে বিমুখ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল তাদের একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। তারা মনে করত, জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না, তবে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য। এই কয়েক দিনের শাস্তির পর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই মনগড়া ধারণা তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে নির্ভীক ও উদাসীন করে তুলেছিল। তারা মনে করত, তাদের শাস্তি খুবই সামান্য এবং অল্প সময়ের জন্য, তাই তারা নিজেদের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করত এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে গুরুত্ব দিত না। তাদের এই ধোঁকা ও প্রতারণার মূল কারণ ছিল তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য কিছু মিথ্যা কথা ও মনগড়া বিশ্বাস তৈরি করে নিয়েছিল এবং সেগুলোকে তাদের ধর্মের অংশ বানিয়ে নিয়েছিল। এই মিথ্যা আকীদা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
নিজের মনগড়া বিশ্বাস বা কুসংস্কারকে ধর্মের অংশ বানানো কত বড় ভুল, তা এখ থেকে স্পষ্ট। ইসলাম শেখায়, ধর্ম শুধুমাত্র আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের শিক্ষার ভিত্তিতে হবে, নিজের ইচ্ছা বা সমাজের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নয়।
আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে নির্ভীক হওয়া বা শাস্তিকে তুচ্ছ মনে করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং মুমিন সর্বদা আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করে এবং তাঁর আদেশ মেনে চলার চেষ্টা করে।
যে ব্যক্তি নিজের ভুল বিশ্বাসকে সত্য মনে করে এবং সত্যকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, সে নিজেকে ধোঁকায় ফেলে। ইসলাম মানুষকে সত্যের সন্ধান করতে এবং ভুল স্বীকার করে সংশোধন হতে উৎসাহিত করে।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, শুধু নিজেকে মুমিন বা ধার্মিক দাবি করলেই হবে না, বরং সত্য বিশ্বাস ও সৎকর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রেখে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করা-ই সফলতার পথ।
আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা কিতাবের কিছু অংশ পেয়েছে-আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের আহবান করা হয়েছিল যাতে তাদের মধ্যে মীমাংসা করা যায়। অতঃপর তাদের মধ্যে একদল তা অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।
কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।
বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।