অতঃপর যে লোক এই ওয়াদা থেকে ফিরে দাঁড়াবে, সেই হবে নাফরমান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تَوَلَّى — মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, বিমুখ হওয়া, প্রত্যাখ্যান করা।
الْفَاسِقُونَ — সত্য থেকে বিচ্যুত, আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী, দুষ্কৃতকারী।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন—যারা পূর্ববর্তী নবীগণের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নেওয়ার পর, এবং স্পষ্ট প্রমাণ ও নির্দেশনা আসার পরও সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ইসলামের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারাই প্রকৃত ফাসিক বা সত্যবিমুখ। তাদের জন্য কোনো ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তাদের কাছে সত্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে গিয়েছিল, অথচ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই অঙ্গীকারের মধ্যে ছিল—ঈমান আনা, রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাদের অনুসরণ করা। বিশেষ করে শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনার অঙ্গীকার, যা পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। যারা এই অঙ্গীকারের পরও ইসলাম থেকে বিমুখ হলো, তারা আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তা ভঙ্গ করা বড় গুনাহ এবং ফাসিকের পরিচয়।
সত্য স্পষ্টভাবে জানার পর তা প্রত্যাখ্যান করা অজ্ঞতার কারণে ভুল করার চেয়েও মারাত্মক অপরাধ।
ইসলামের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণই মুমিনের পরিচয়; আর তা থেকে বিমুখ হওয়া মানে নিজের ক্ষতি নিজে ডেকে আনা।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, ঈমানের দাবি কেবল মুখে বলা নয়, বরং তা প্রমাণ করতে হবে আমল ও আনুগত্যের মাধ্যমে।
আল্লাহর রহমত ও হিদায়াত পেতে হলে তাঁর নির্দেশের সামনে মাথা নত করতে হবে, অহংকার ও বিমুখতা নয়।
তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগনকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে কুফরী শেখাবে?
আর আল্লাহ যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমার কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।
তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
বলুন, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের উপর, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁদের সন্তানবর্গের উপর আর যা কিছু পেয়েছেন মূসা ও ঈসা এবং অন্যান্য নবী রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।