يُسْتَعْتَبُونَ — তাদের কাছে তাওবা ও সন্তুষ্টি কামনা করা হবে না; অর্থাৎ তাদেরকে বলা হবে না যে, ‘তোমরা তাওবা করে তোমাদের রবকে সন্তুষ্ট করো।’
তাফসির:
কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে যারা দুনিয়ায় জুলুম করেছে—অর্থাৎ শিরক, কুফরি ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল—তাদের কোনো অজুহাতই কোনো কাজে আসবে না। তারা যে সব ওজর-আপত্তি পেশ করবে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত হবে। তাদেরকে তাওবা করার সুযোগও দেওয়া হবে না, কারণ তাওবা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সময় ছিল দুনিয়ার জীবন। সেখানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়, আর তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনারও দাবি করা হবে না। বরং তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতেই হবে। দুনিয়ায় যখন তাদেরকে ঈমান ও সৎকর্মের আহ্বান জানানো হয়েছিল, তখন তারা তা অমান্য করেছিল; তাই আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে শুধুই চিরস্থায়ী শাস্তি।
উপদেশ ও শিক্ষা:
দুনিয়ার জীবনই হলো তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার একমাত্র সুযোগ। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে আফসোস ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ; কিয়ামতের দিন কোনো অজুহাতই জালিমকে রক্ষা করতে পারবে না।
আল্লাহর দরবারে বিনয়ী হয়ে তাওবা করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য, যাতে আখিরাতের অনুতাপ থেকে বাঁচা যায়।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার প্রতি মোহ ও পাপাচারে লিপ্ত থাকা অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক; বরং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই সফলতার চাবিকাঠি।
যাদের জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে আমরা আল্লাহর কিতাব মতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এটাই পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা তা জানতে না।
আমি এই কোরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। আপনি যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন উপস্থিত করেন, তবে কাফেররা অবশ্যই বলবে, তোমরা সবাই মিথ্যাপন্থী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।