আজ-জুমার · 46/75
অনুবাদ উচ্চারণ — আজ-জুমার
قُلِ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ۝٤٦
Qulil laahumma faatiras samaawaati wal ardi `Aalimal Ghaibi washshahaadati Anta tahkumu baina `ibaadika fee maa kaanoo fee yakhtalifoon
📖 বাংলা অর্থ
বলুন, হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَاطِرَ অর্থ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকারী (যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন)।
  • الْغَيْبِ অর্থ অদৃশ্য, যা মানুষের অনুভূতি ও জ্ঞানের আড়ালে।
  • الشَّهَادَةِ অর্থ দৃশ্যমান, যা মানুষ দেখতে পায় বা প্রত্যক্ষ করে।
  • تَحْكُمُ অর্থ আপনি ফয়সালা করেন, বিচার করেন।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি বলুন: “হে আল্লাহ! আপনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই এগুলো উদ্ভাবন করেছেন। আপনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞানী—আপনার কাছে কোনো কিছুই গোপন নেই। আপনিই একমাত্র বিচারক, যিনি আপনার বান্দাদের মধ্যে সেই বিষয়ে ফয়সালা করবেন যাতে তারা দুনিয়ায় মতভেদ করত—তারা আপনার একত্ব, আপনার রাসূলের সত্যতা, এবং দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে বিভক্ত হয়েছিল। কিয়ামতের দিন আপনি সত্য ও মিথ্যা, হক ও বাতিল, সৌভাগ্যবান ও হতভাগ্য—সবকিছু স্পষ্টভাবে পৃথক করে দেবেন।”

এই আয়াতটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দু‘আগুলোর একটি। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের শিক্ষা দিচ্ছেন যে, তারা যেন সবসময় আল্লাহর কাছে ফিরে যায়, তাঁর সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলি দ্বারা তাঁকে ডাকে এবং নিজেদের প্রয়োজন ও বিভেদের সমাধান তাঁর কাছেই চায়। কারণ, তিনিই একমাত্র ক্ষমতার মালিক, যিনি যা ইচ্ছা করেন তা করেন এবং তাঁর জ্ঞান ও বিচার সর্বোত্তম।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় তাঁর সুন্দর নাম ও মহান গুণাবলি উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এতে দু‘আ কবুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং বান্দার অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
  2. আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী—তিনি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু জানেন। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় সতর্ক থাকা এবং জানা যে, আমাদের প্রতিটি কাজ ও কথা তাঁর সামনে উপস্থাপিত হবে।
  3. মতভেদ ও দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত সমাধান কিয়ামতের দিন আল্লাহই করবেন। তাই দুনিয়ার কোনো বিষয়ে মতভেদ হলে আমাদের কর্তব্য হিংসা-বিদ্বেষ না করে ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর বিচারের ওপর আস্থা রাখা।
  4. এই আয়াত শিক্ষা দেয় যে, বিপদ-সংকটে এবং মতভেদের সময় আল্লাহর কাছেই আশ্রয় নেওয়া উচিত, কারণ তিনিই একমাত্র সত্যিকার সাহায্যকারী ও বিচারক।
  5. ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান করা এবং বিভেদ-কলহ এড়িয়ে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা—যার চূড়ান্ত পুরস্কার ও ন্যায়বিচার আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 44-48 — আজ-জুমার

44قُل لِّلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا ۖ لَّهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান ও যমীনে তাঁরই সাম্রাজ্য। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
45وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ ۖ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِن دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ
যখন খাঁটিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে।
46قُلِ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
বলুন, হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত।
47وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ مِن سُوءِ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ وَبَدَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ
যদি গোনাহগারদের কাছে পৃথিবীর সবকিছু থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে অবশ্যই তারা কেয়ামতের দিন সে সবকিছুই নিস্কৃতি পাওয়ার জন্যে মুক্তিপন হিসেবে দিয়ে দেবে। অথচ তারা দেখতে পাবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন শাস্তি, যা তারা কল্পনাও করত না।
48وَبَدَا لَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا كَسَبُوا وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
আর দেখবে, তাদের দুস্কর্মসমূহ এবং যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তা তাদেরকে ঘিরে নেবে।
আজ-জুমারকুরআন সূচী
75আয়াত
মাক্কীRevelation
46আয়াত

অনুবাদ — আজ-জুমার 46

সূরা আজ-জুমার আয়াত 46 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুন, হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের…

সূরা আয়াত 46/75 — আজ-জুমার الزمر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আজ-জুমার শুনুন, আজ-জুমার অনুবাদ, আজ-জুমার mp3, আজ-জুমার pdf. আয়াত 44–48. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না