অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- أَشْرَقَتْ — আলোকিত হলো, উজ্জ্বল হলো।
- بِنُورِ رَبِّهَا — তার প্রতিপালকের আলোয়।
- وُضِعَ الْكِتَابُ — আমলনামা (কর্মফলের হিসাবের বই) স্থাপন করা হলো।
- الشُّهَدَاءِ — সাক্ষীগণ (যারা নবীগণের সত্যতা ও তাদের উম্মতের অবস্থার সাক্ষ্য দেবেন)।
- قُضِيَ — ফয়সালা করা হলো, মীমাংসা করা হলো।
- لَا يُظْلَمُونَ — তাদের প্রতি কোনো জুলুম/অবিচার করা হবে না।
তাফসীর:
কিয়ামতের দিন যখন মহান আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিজগতের বিচার-ফয়সালার জন্য নিজের মহিমায় আবির্ভূত হবেন, তখন সমগ্র পৃথিবী (সেদিনের ময়দান) তাঁর নূর ও জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। সেদিন প্রতিটি মানুষের আমলনামা (কর্মের হিসাবের বই) সামনে রাখা হবে। সকল নবী-রাসূলকে উপস্থিত করা হবে তাদের নিজ নিজ উম্মতের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। আর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করা হবে উম্মতে মুহাম্মাদীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যারা পূর্ববর্তী নবীগণের প্রতি তাদের উম্মতদের অস্বীকৃতি ও মিথ্যারোপের বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে। কারণ, পূর্ববর্তী উম্মতরা যখন অস্বীকার করবে যে, তাদের কাছে কোনো নবী আসেননি, তখন উম্মতে মুহাম্মাদী সাক্ষ্য দেবে যে, নবীগণ তাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা সকল সৃষ্টির মধ্যে পূর্ণ ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করবেন। কেউ কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করতে পারবে না; কারো নেকি কমানো হবে না, আবার কারো গুনাহ বাড়ানোও হবে না। প্রত্যেকে তার কর্মফল যথাযথভাবে পাবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- কিয়ামতের দিন আল্লাহর নূর ও জ্যোতিতে সমগ্র পৃথিবী আলোকিত হবে, যা তাঁর মহত্ত্ব ও ক্ষমতার পরিচায়ক। আমাদের উচিত দুনিয়াতেই আল্লাহর নূর তথা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনা করা।
- প্রতিটি মানুষের আমলনামা সেদিন উপস্থাপন করা হবে। তাই আমাদের প্রতিটি কাজ, কথা ও চিন্তার ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি, কারণ সবকিছুই লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
- নবী-রাসূলগণ ও সাক্ষীগণ সেদিন উপস্থিত থাকবেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে নবীগণ তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীও সাক্ষ্য দানের সম্মান লাভ করবে। আমাদের উচিত নবীগণের আদর্শ অনুসরণ করা এবং সত্যের সাক্ষী হিসেবে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত থাকা।
- আল্লাহর বিচার সম্পূর্ণ ন্যায়ভিত্তিক। সেখানে কোনো অবিচার, পক্ষপাতিত্ব বা জুলুম নেই। এই বিশ্বাস আমাদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগায় যে, দুনিয়ার কোনো জুলুম-নির্যাতনই শেষ কথা নয়; আল্লাহর ন্যায়বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।
- এই আয়াত আমাদের পরকালমুখী জীবন গড়তে উৎসাহিত করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর ন্যায়বিচার ও হিসাবের দিনে বিশ্বাস করে, সে কখনো অন্যায় করতে পারে না এবং ধৈর্য ও সততার সাথে জীবনযাপন করে।
📜 আয়াত 67-71 — আজ-জুমার
অনুবাদ — আজ-জুমার 69
সূরা আজ-জুমার আয়াত 69 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে,…সূরা আয়াত 69/75 — আজ-জুমার الزمر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আজ-জুমার শুনুন, আজ-জুমার অনুবাদ, আজ-জুমার mp3, আজ-জুমার pdf. আয়াত 67–71. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








