ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ – অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের রবেরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, প্রতিটি মানুষের কর্মের ফল সে নিজেই ভোগ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী সৎকর্ম করে, তার এই কর্মের সুফল সম্পূর্ণ তার নিজেরই — কেননা আল্লাহ তাআলা কারো কর্মের মুখাপেক্ষী নন, তিনি স্বয়ং সম্পদশালী। অপরদিকে, যে ব্যক্তি গুনাহ ও অন্যায় কাজ করে, তার ক্ষতিও তার নিজের উপরই বর্তাবে — আল্লাহর কোনো ক্ষতি হবে না। এরপর কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে তাদের রবের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সেদিন প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান বা শাস্তি দেওয়া হবে। ভালো কাজের বিনিময়ে জান্নাত এবং মন্দ কাজের বিনিময়ে জাহান্নাম — এটাই আল্লাহর ন্যায়বিচার।
শিক্ষা ও উপদেশ:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর দীন অত্যন্ত সুন্দর ও ন্যায়সংগত — এখানে কারো প্রতি জুলুম নেই। ভালো কাজ করলে তার পুরস্কার নিজেই পাবে, আর মন্দ কাজ করলে তার শাস্তিও নিজেকেই ভোগ করতে হবে।
এটি আমাদেরকে দায়িত্ববোধ শেখায় — আমরা যা কিছু করি, তার ফল আমরা নিজেরাই পাব। তাই আমাদের উচিত সর্বদা সৎকর্ম করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা।
এই আয়াত আমাদের মনে আখিরাতের বিশ্বাস দৃঢ় করে — এই দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, বরং একটি মহান দিন আমাদের সামনে অপেক্ষমাণ, যেদিন প্রতিটি কাজের হিসাব নেওয়া হবে।
এটি আমাদেরকে আশা ও ভয় উভয়ই শেখায় — সৎকর্মের প্রতি উৎসাহিত করে এবং মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করে। ইসলামের এই ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে দেবেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।