আল-মায়িদা · 116/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ ۝١١٦
Wa iz qaalal laahu yaa `Eesab na Maryama `a-anta qulta linnaasit takhizoonee wa ummiya ilaahaini min doonil laahi qaala Subhaanaka maa yakoonu leee anaqoola maa yakkoonu leee an aqoola maa laisa lee bihaqq; in kuntu qultuhoo faqad `alimtah; ta`lamu maa fee nafsee wa laaa a`almu maa fee nafsik; innaka Anta `Allaamul Ghuyoob
📖 বাংলা অর্থ
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • اتَّخِذُونِي অর্থ: আমাকে গ্রহণ করো বা বানাও।
  • إِلَٰهَيْنِ অর্থ: দুই উপাস্য।
  • سُبْحَانَكَ অর্থ: আপনি পবিত্র, আপনি দোষমুক্ত।
  • مَا يَكُونُ لِي অর্থ: আমার জন্য শোভনীয় নয় / আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
  • تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي অর্থ: আপনি জানেন যা আমার অন্তরে আছে।
  • عَلَّامُ الْغُيُوبِ অর্থ: সমস্ত গোপন বিষয়ের সর্বাধিক জ্ঞানী।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর নবী ঈসা (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, "হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে যে, তোমরা আমাকে এবং আমার মাতাকে আল্লাহর পরিবর্তে দুই উপাস্য বানিয়ে নাও?" — এটি হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ, যাতে সমগ্র সৃষ্টির সামনে ঈসা (আঃ)-এর পবিত্রতা ও নির্দোষিতা প্রমাণিত হয় এবং খ্রিস্টানদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের মিথ্যাচার ধ্বংস হয়ে যায়।

জবাবে ঈসা (আঃ) আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে বলবেন, "আপনি পবিত্র, দোষমুক্ত! আমার পক্ষে কখনোই শোভনীয় নয় যে, আমি এমন কথা বলব যা বলার আমার কোনো অধিকার নেই। আমি তো কখনোই মানুষকে আমার ও আমার মাতার উপাসনা করতে বলিনি।"

এরপর তিনি আরও বলবেন, "যদি আমি এমন কোনো কথা বলে থাকি, তবে আপনি তো তা জানেনই। আপনি তো আমার অন্তরের গোপন বিষয়ও জানেন, কিন্তু আমি আপনার গোপন বিষয় জানি না। নিশ্চয় আপনি সকল গোপন ও অদৃশ্য বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞানী।"

ঈসা (আঃ)-এর এই জবাব অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে, এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভক্তির সাথে দেওয়া হবে। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সোপর্দ করে দেবেন এবং কোনো প্রকার স্বীয় পক্ষে সাফাই গাওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর জ্ঞানের কাছে নিজেকে সমর্পণ করবেন।

শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর নবী-রাসূলদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, যা প্রমাণ করে যে আল্লাহর ন্যায়বিচার ও হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত নিখুঁত হবে।
  2. নবী ঈসা (আঃ) নিজেকে এবং তাঁর মাতাকে উপাস্য বলার ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলেন; খ্রিস্টানদের এই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপবাদ।
  3. আল্লাহর জ্ঞান অসীম — তিনি প্রকাশ্য ও গোপন, দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছু জানেন। আমাদের প্রতিটি কথা ও কাজ সম্পর্কে তিনি পূর্ণ অবগত।
  4. একজন সত্যিকারের মুমিনের উচিত আল্লাহর কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করা এবং নিজের পক্ষে কোনো অজুহাত না দিয়ে আল্লাহর জ্ঞান ও সিদ্ধান্তের কাছে মাথা নত করা।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, নবী-রাসূলগণ আল্লাহর নির্দেশের বাইরে কোনো কথা বলতেন না; তাদের প্রতিটি কথা ছিল ওহীর ভিত্তিতে। তাই তাদের অনুসরণই আমাদের মুক্তির পথ।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 114-118 — আল-মায়িদা

114قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।
115قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ ۖ فَمَن يَكْفُرْ بَعْدُ مِنكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَّا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ
আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।
116وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত।
117مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ
আমি তো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সে কথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব অবলম্বন কর যিনি আমার ও তোমাদের পালনকর্তা আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।
118إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
116আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 116

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 116 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে…

সূরা আয়াত 116/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 114–118. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না