আল-আনআম · 14/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ ۗ قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ ۖ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ۝١٤
Qul aghairal laahi attakhizu waliyyan faatiris samaawaati wal ardi wa Huwa yut`imu wa laa yut`am; qul inneee umirtu an akoona awwala man salama wa laa takoonanna minal mushrikeen
📖 বাংলা অর্থ
আপনি বলে দিনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত-যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَلِيًّا: অভিভাবক, সাহায্যকারী, বন্ধু।
  • فَاطِرِ: সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক (যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন)।
  • يُطْعِمُ: তিনি অপরকে রিজিক দেন, খাওয়ান।
  • لَا يُطْعَمُ: তাকে কেউ খাওয়ায় না, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।
  • أَسْلَمَ: আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সঁপে দেওয়া।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি ঐ মুশরিকদের বলুন, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে উপাস্য ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করে: “আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করব? অথচ তিনিই আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই এগুলো উদ্ভাবন করেছেন। তিনিই তাঁর সৃষ্টিজীবকে রিজিক দেন এবং তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করেন, কিন্তু তিনি নিজে কারো মুখাপেক্ষী নন, কেউ তাকে রিজিক দেয় না। তিনি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ, আর তাঁর সমস্ত সৃষ্টি তাঁরই মুখাপেক্ষী।”

তারপর বলুন: “আমাকে আমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, আমি এই উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করি এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁরই আনুগত্য করি। আমাকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমি যেন কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত না হই, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করি।”

অর্থাৎ, যে সত্তা নিজেই অমুখাপেক্ষী এবং সকলকে রিজিক দান করেন, তিনি ছাড়া অন্য কাউকে সাহায্যকারী ও অভিভাবক বানানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন স্পষ্টভাবে এই ঘোষণা দেন যে, তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক মানবেন না এবং তিনিই এই উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহই একমাত্র অভিভাবক ও সাহায্যকারী। তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাকে অভিভাবক বানানো সম্পূর্ণ ভুল ও শিরক।
  2. আল্লাহ সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ; তিনি সবাইকে রিজিক দেন, কিন্তু কেউ তাকে রিজিক দিতে পারে না। তাই শুধু তাঁরই কাছে চাওয়া উচিত।
  3. ইসলামের সূচনা থেকেই তাওহীদের ঘোষণা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করে এই পথের সূচনা করেছেন।
  4. মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো সর্বদা শিরক থেকে দূরে থাকা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দ্বীনের ব্যাপারে সাহসিকতার সাথে সত্য ঘোষণা করতে হবে, এমনকি সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভিন্ন পথে থাকলেও।


📜 আয়াত 12-16 — আল-আনআম

12قُل لِّمَن مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে? বলে দিনঃআল্লাহ। তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন। এর আগমনে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারাই বিশ্বাস স্থাপন করে না।
13۞ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে, তাঁরই। তিনিই শ্রোতা, মহাজ্ঞানী।
14قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ ۗ قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ ۖ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আপনি বলে দিনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত-যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
15قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
আপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই কেননা, আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি।
16مَّن يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ
যার কাছ থেকে ঐদিন এ শাস্তি সরিয়ে নেওয়া হবে, তার প্রতি আল্লাহর অনুকম্পা হবে। এটাই বিরাট সাফল্য।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
14আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 14

সূরা আল-আনআম আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বলে দিনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত-যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের…

সূরা আয়াত 14/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না