আল-আনআম · 13/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
۞ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ۝١٣
Wa lahoo maa sakana fillaili wannahaar; wa Huwas Samee`ul Aleem
📖 বাংলা অর্থ
যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে, তাঁরই। তিনিই শ্রোতা, মহাজ্ঞানী।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • سَكَنَ — স্থির হয়েছে, অবস্থান করেছে।
  • السَّمِيعُ — সর্বশ্রোতা, যিনি সবকিছু শোনেন।
  • العَلِيمُ — সর্বজ্ঞ, যিনি সবকিছু জানেন।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলার একচ্ছত্র মালিকানা ও কর্তৃত্বের ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছে— রাত ও দিনে যা কিছু স্থির হয়েছে বা অবস্থান করছে, সবকিছুর মালিক তিনি একাই। প্রকৃতপক্ষে এখানে “স্থির হওয়া” বলতে কেবল স্থির বস্তুই উদ্দেশ্য নয়; বরং যা কিছু আছে— স্থির হোক বা গতিশীল, প্রকাশ্য হোক বা গোপন, আসমান ও জমিনের সবকিছু— সবই তাঁর সৃষ্টি, তাঁর দাসত্বাধীন এবং তাঁরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। কেউ তাঁর এ রাজত্বের বাইরে নয়, কারও কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই। তিনি প্রতিটি বস্তুকে তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করেন।

আর তিনি السَّمِيعُ (সর্বশ্রোতা)— তাঁর বান্দাদের প্রতিটি কথা তিনি শোনেন, চুপে চুপে বলা হোক বা উচ্চস্বরে। এমনকি অন্তরের গোপন চিন্তাও তাঁর অজানা নয়। তিনি العَلِيمُ (সর্বজ্ঞ)— প্রতিটি কাজ, প্রতিটি গতিবিধি, প্রতিটি লুকানো বিষয় সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত। মানুষের ভালো-মন্দ, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা, আনুগত্য-অবাধ্যতা— সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের আওতায়। তিনি সব কিছু দেখবেন এবং প্রত্যেককে তার কাজের যথাযথ প্রতিদান দেবেন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর মালিকানা ও কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ মনে রাখে— এই পৃথিবীতে কেউ স্বাধীন নয়; সবাই আল্লাহর অধীন। ফলে মানুষের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
  2. আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন— এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে। যখন মানুষ জানে যে, তার প্রতিটি কথা ও কাজ আল্লাহর জানা, তখন সে গোপনে ও প্রকাশ্যে সৎ থাকার চেষ্টা করে।
  3. এই আয়াত মানুষের মনে এই প্রত্যয় জাগায় যে, দুনিয়ার কোনো কাজই বিনষ্ট হয় না; প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান এবং প্রতিটি মন্দ কাজের শাস্তি আল্লাহ দেবেন। ফলে মানুষ ভালো কাজে উৎসাহিত হয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে।
  4. রাত-দিনের সব অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর প্রতি ভরসা রাখা উচিত, কারণ তিনিই সবকিছুর রক্ষক ও পরিচালক।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 11-15 — আল-আনআম

11قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপ কারীদের পরিণাম কি হয়েছে?
12قُل لِّمَن مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে? বলে দিনঃআল্লাহ। তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন। এর আগমনে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারাই বিশ্বাস স্থাপন করে না।
13۞ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে, তাঁরই। তিনিই শ্রোতা, মহাজ্ঞানী।
14قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ ۗ قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ ۖ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আপনি বলে দিনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত-যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
15قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
আপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই কেননা, আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 13

সূরা আল-আনআম আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে, তাঁরই। তিনিই…

সূরা আয়াত 13/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না