Wa in kaana kabura `alaika i`raaduhum fa inistata`ta an tabtaghiya nafaqan fil ardi aw sullaman fis samaaa`i fataa tiyahum bi Aayah; wa law shaaa`al laahu lajama`ahum `alal hudaa; falaa takoonanna minal jaahileen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अगरचे उन लोगों की रदगिरदानी (मुँह फेरना) तुम पर शाक़ ज़रुर है (लेकिन) अगर तुम्हारा बस चले तो ज़मीन के अन्दर कोई सुरगं ढँढ निकालो या आसमान में सीढ़ी लगाओ और उन्हें कोई मौजिज़ा ला दिखाओ (तो ये भी कर देखो) अगर ख़ुदा चाहता तो उन सब को राहे रास्त पर इकट्ठा कर देता (मगर वह तो इम्तिहान करता है) बस (देखो) तुम हरगिज़ ज़ालिमों में (शामिल) न होना
আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
কَبُرَ عَلَيْكَ — আপনার জন্য কঠিন ও দুঃসহ মনে হওয়া।
إِعْرَاضُهُمْ — তাদের (কাফিরদের) মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, সত্য থেকে বিমুখ হওয়া।
نَفَقًا — ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বা গুহা।
سُلَّمًا — সিঁড়ি বা আরোহণের উপকরণ, যা দিয়ে আকাশে ওঠা যায়।
تَبْتَغِيَ — তালাশ করা, অন্বেষণ করা।
آيَةٍ — নিদর্শন, প্রমাণ, অলৌকিক ঘটনা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! কাফিরদের আপনার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং সত্য গ্রহণে অস্বীকৃতি আপনার কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। আপনি চান তারা ঈমান আনুক, আর তাদের জন্য আপনি এমন কোনো নিদর্শন দেখাতে চান যা দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করবে। আল্লাহ আপনাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন— যদি তুমি সত্যিই চাও যে তাদেরকে কোনো নিদর্শন দেখিয়ে ঈমান আনার পথ খুঁজে বের করতে, তবে তুমি কি পারবে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে অথবা আকাশে সিঁড়ি বেয়ে উঠে এমন কোনো নিদর্শন নিয়ে আসতে যা আমি তোমাকে দিইনি? অর্থাৎ, তুমি তো তা পারবে না। কারণ নিদর্শন প্রেরণ আমার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, তোমার ইচ্ছার ওপর নয়।
আর জেনে রাখো— আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তিনি সবাইকে জোর করে হিদায়াতের ওপর একত্র করে দিতেন এবং সকলেই ঈমান আনত। কিন্তু তিনি তা করেননি, বরং মানুষকে ইচ্ছাশক্তি ও পরীক্ষার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি চান মানুষ নিজের ইচ্ছা ও বিবেক দিয়ে সত্যকে গ্রহণ করুক। তাই হে নবী! তাদের ঈমান না আনার জন্য আপনি এতটা দুশ্চিন্তা ও আফসোস করবেন না, যা আপনাকে হতাশা ও অস্থিরতায় ফেলে দেয়। যারা আল্লাহর হিকমত ও ইচ্ছাকে ভুলে গিয়ে এমন আচরণ করে, তারা জাহিল (মূর্খ)দের অন্তর্ভুক্ত। আপনি সেই জাহিলদের দলভুক্ত হবেন না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যাকে চান হিদায়াত দেন, আর যাকে চান পথভ্রষ্ট রাখেন— তাঁর পূর্ণ হিকমত অনুযায়ী। তাই কারো ঈমান না আনার জন্য অতিরিক্ত দুঃখ করা উচিত নয়।
নবীজীর অন্তর ছিল উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও মমতাময়ী। তাদের হিদায়াতের জন্য তিনি এতটাই ব্যাকুল ছিলেন যে, আল্লাহ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন— তুমি জাহিলদের মতো হয়ো না, অর্থাৎ হিদায়াতের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো।
মানুষের ওপর জোর করে ঈমান চাপিয়ে দেওয়া আল্লাহর রীতি নয়। বরং প্রত্যেক মানুষকে তার ইচ্ছাশক্তি ও বিবেক দিয়ে সত্য গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটাই আল্লাহর পরীক্ষার নিয়ম।
দাওয়াতের কাজে আমাদের কর্তব্য হলো সত্য পৌঁছে দেওয়া, আর হিদায়াত দেওয়া একমাত্র আল্লাহর কাজ। তাই দাওয়াত দিয়ে ফল না পেলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা প্রতিটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
এই আয়াত আমাদের শেখায়— কোনো কাজের ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত না হয়ে, আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। কারণ আল্লাহ যা করেন, তা হিকমতের ভিত্তিতেই করেন।
আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।
আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
তারা বলেঃ তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ আল্লাহ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।