অতএব, অবশ্য তারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে যখন তা তাদের কাছে এসেছে। বস্তুতঃ অচিরেই তাদের কাছে ঐ বিষয়ের সংবাদ আসবে, যার সাথে তারা উপহাস করত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْحَقّ (আল-হাক্ক): সত্য; এখানে কুরআন ও ইসলামের বাণী।
أَنبَاء (আনবা): সংবাদসমূহ; 'নাবা' এর বহুবচন, অর্থাৎ পরিণাম ও বাস্তব সত্য।
يَسْتَهْزِئُونَ (ইয়াসতাহযিউন): তারা উপহাস করত, ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
তাফসির:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কাফিরদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তারা যখন সত্য দ্বীন—কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা—তাদের কাছে এসেছে, তখন তারা তা মিথ্যা বলেছে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে। তাদের এই আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞতা ও অহংকারের কারণে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সহনশীলতাকে ভুল বুঝেছিল, মনে করেছিল যে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেই তারা নিরাপদ।
কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করেছেন যে, তারা যে সত্যকে উপহাস করছে, তার পরিণাম অচিরেই তাদের সামনে আসবে। অর্থাৎ, যখন তারা আখিরাতের আজাব বা দুনিয়াতেও আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হবে, তখন তারা জানতে পারবে যে, তারা যে বিষয়টিকে মিথ্যা ও উপহাসের পাত্র বানিয়েছিল, সেটিই ছিল একমাত্র সত্য। তখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তারা নিজেরাই ছিল ভ্রান্ত ও প্রতারিত। আল্লাহ তাদের মিথ্যা বলার প্রতিদান দেবেন এবং তাদের উপহাসের শাস্তি দেবেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সত্যকে মিথ্যা বলা বা উপহাস করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ; এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
আল্লাহর সহনশীলতা ও অবকাশ দেওয়াকে কেউ যেন নিরাপত্তা বা অপরাধের সুযোগ হিসেবে না নেয়; শাস্তি অবশ্যই আসবে।
কুরআন ও ইসলামের বাণীই হলো চূড়ান্ত সত্য; যারা এতে সন্দেহ পোষণ করে বা ঠাট্টা করে, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে।
প্রতিটি মানুষের উচিত সত্যকে বিনয়ের সাথে গ্রহণ করা, কারণ সত্যকে অগ্রাহ্য করা এবং উপহাস করা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং তাকে সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
আখিরাতে প্রত্যেককে তার কর্মের প্রকৃত ফল দেখানো হবে; তখন উপহাসকারীরা লজ্জিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দুনিয়াতেই সত্যকে মেনে নিয়ে আল্লাহর রহমতের পথে চলা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।