তাদের উদাহরণ অতি নিকৃষ্ট, যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াত সমূহকে এবং তারা নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
سَاءَ — কতই না নিকৃষ্ট / কত খারাপ।
مَثَلًا — উপমা বা দৃষ্টান্ত হিসেবে।
كَذَّبُوا — মিথ্যা বলেছে / অস্বীকার করেছে।
بِآيَاتِنَا — আমাদের নিদর্শনসমূহকে (আল্লাহর আয়াত, প্রমাণ ও হেদায়াতের লক্ষণসমূহ)।
يَظْلِمُونَ — অত্যাচার করে / জুলুম করে।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই কওমের নিন্দা করেছেন যারা তাঁর আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং সেগুলোকে অস্বীকার করেছে। অথচ এই আয়াতসমূহ ছিল স্পষ্ট প্রমাণ ও হেদায়াতের আলো, যা তাদের সামনে পেশ করা হয়েছিল। তারা যখন জেনে-বুঝে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করল, তখন তাদের এই অবস্থা কতই না নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য! আল্লাহ বলেন, “কতই না নিকৃষ্ট সেই কওমের উপমা, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে।” অর্থাৎ তাদের দৃষ্টান্ত অত্যন্ত খারাপ, কারণ তারা সত্যকে দেখেও চোখ বন্ধ করেছে এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, “তারা নিজেদেরই জুলুম করত।” কারণ এই অস্বীকৃতি ও মিথ্যারোপের মাধ্যমে তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করেনি, বরং নিজেদের আত্মারই ক্ষতি করেছে। তারা নিজেদেরকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করেছে, জাহান্নামের শাস্তির উপযোগী করেছে এবং নিজেদের ঈমান ও কল্যাণকে ধ্বংস করেছে। প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে, সে নিজের উপরই সবচেয়ে বড় জুলুম করে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা এবং সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। যারা সেগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের অবস্থা আল্লাহর দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
সত্যকে জানার পর তা প্রত্যাখ্যান করা সবচেয়ে বড় অন্যায়। কারণ তখন মানুষ জেনে-শুনে নিজের ক্ষতি নিজেই করে।
আল্লাহর কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা মানুষের নেই; বরং যে কুফরি বা গুনাহ করে, সে নিজের আত্মাকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তাই আমাদের উচিত নিজের প্রতি দয়া করা এবং আল্লাহর পথে চলা।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, কুরআনের আয়াত ও রাসূলের (সা.) শিক্ষা是人类 জন্য রহমত ও হেদায়াত। যারা এগুলো গ্রহণ করে, তারা সফল; আর যারা প্রত্যাখ্যান করে, তারা নিজেদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মুমিনের উচিত সর্বদা আত্মসমালোচনা করা এবং নিশ্চিত হওয়া যে, সে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলছে, যাতে নিজের উপর জুলুম করা থেকে বাঁচতে পারে।
আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়েছে।
অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে।
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।