ইউনুস · 28/109
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ইউনুস
وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا مَكَانَكُمْ أَنتُمْ وَشُرَكَاؤُكُمْ ۚ فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ ۖ وَقَالَ شُرَكَاؤُهُم مَّا كُنتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُونَ ۝٢٨
Wa yawma nahshuruhum jamee`an summa naqoolu lillazeena ashrakoo makaanakum antum wa shurakaaa`ukum; fazaiyalnaa bainahum wa qaala shurakaaa`uhum maa kuntum iyyaanaa ta`budoon
📖 বাংলা অর্থ
আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে সমবেত করব; আর যারা শেরক করত তাদেরকে বলবঃ তোমরা এবং তোমাদের শরীকরা নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে যাও-অতঃপর তাদেরকে পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন করে দেব, তখন তাদের শরীকরা বলবে, তোমরা তো আমাদের উপাসনা-বন্দেগী করনি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • نَحْشُرُهُمْ (নাহশুরুহুম) — আমরা তাদের একত্র করবো / সমবেত করবো।
  • مَكَانَكُمْ (মাকানাকুম) — তোমাদের জায়গায় স্থির থাকো / নিজ নিজ অবস্থানে থাকো।
  • شُرَكَاؤُكُمْ (শুরাকাউকুম) — তোমাদের অংশীদাররা, অর্থাৎ যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরিক করেছিলে (মূর্তি, দেবতা ইত্যাদি)।
  • فَزَيَّلْنَا (ফাঝাইয়্যালনা) — তখন আমরা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবো / পৃথক করে দেবো।
  • تَعْبُدُونَ (তা‘বুদুন) — তোমরা ইবাদত করতে।

সম্পূর্ণ তাফসির:

হে প্রিয় নবী! আপনি সেই ভয়ংকর দিনটির কথা স্মরণ করান, যেদিন আমরা সমস্ত সৃষ্টিজগৎকে—প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত—একত্রিত করবো হিসাব-নিকাশের জন্য। সবাই যখন ময়দানে জড়ো হবে, তখন আমরা মুশরিকদের উদ্দেশ্যে বলবো: “তোমরা এবং তোমাদের সেই উপাস্যরা, যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকতে এবং তাদের ইবাদত করতে, সবাই নিজ নিজ জায়গায় স্থির থাকো! এখান থেকে নড়ো না, যতক্ষণ না দেখতে পাও তোমাদের পরিণতি কী হয়!”

এরপরই আমরা তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবো। দুনিয়ায় যে সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং সংযোগ তাদের মধ্যে ছিল—সব কিছু ছিন্ন হয়ে যাবে। মুশরিকরা যখন তাদের উপাস্যদের (মূর্তি, পাথর, নবী, ফেরেশতা বা অন্য যা কিছুকে তারা আল্লাহর সাথে শরিক করেছিল) দিকে তাকাবে সাহায্যের আশায়, তখন সেই উপাস্যরা নিজেরাই মুখ খুলে বলবে: “তোমরা তো আমাদের ইবাদত করনি! আমরা তো তোমাদেরকে আমাদের ইবাদত করতে বলিনি, আমাদের কোনো নির্দেশও ছিল না। তোমরা নিজেদের খেয়াল-খুশি ও শয়তানের প্ররোচনায় আমাদের উপাসনা করতে। আমরা তোমাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং তোমাদের এই কাজের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এটি হবে মুশরিকদের জন্য চরম লজ্জা ও আফসোসের মুহূর্ত। তারা যে মিথ্যার পেছনে সারা জীবন ধাবিত ছিল, সেদিন তার সবটুকু উন্মোচিত হয়ে যাবে। তাদের আশা-ভরসার সব ঠিকানা ভেঙে পড়বে এবং তারা বুঝতে পারবে যে, তারা সম্পূর্ণ পথভ্রষ্ট ছিল।

এই আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে আশ্রয় নেওয়া, অন্য কাউকে আল্লাহর সমান মর্যাদা দেওয়া, বা এমন কোনো সত্তার ইবাদত করা যাকে আল্লাহ ইবাদতের যোগ্য করেননি—এটি এমন একটি ভুল, যার পরিণতি কিয়ামতের দিন অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলা। আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা অপরিসীম, কিন্তু শিরক এমন একটি পাপ যা তিনি ক্ষমা করবেন না, যদি না তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসা হয়। আসুন, আমরা সবাই এই পৃথিবীতে থাকতেই শিরক ও সকল প্রকার মিথ্যা উপাসনা থেকে বিরত থাকি এবং একমাত্র আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হয়ে জীবন যাপন করি—যাতে কিয়ামতের সেই কঠিন দিনে আমরা নিরাপদ ও শান্তিতে থাকতে পারি।



📜 আয়াত 26-30 — সূরা ইউনুস

26۞ لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَىٰ وَزِيَادَةٌ ۖ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী। আর তাদের মুখমন্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল।
27وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاءُ سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ مَّا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ ۖ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ اللَّيْلِ مُظْلِمًا ۚ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা সঞ্চয় করেছে অকল্যাণ অসৎ কর্মের বদলায় সে পরিমাণ অপমান তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে। কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহর হাত থেকে। তাদের মুখমন্ডল যেন ঢেকে দেয়া হয়েছে আধাঁর রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হল দোযখবাসী। এরা এতেই থাকবে অনন্তকাল।
28وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا مَكَانَكُمْ أَنتُمْ وَشُرَكَاؤُكُمْ ۚ فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ ۖ وَقَالَ شُرَكَاؤُهُم مَّا كُنتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُونَ
আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে সমবেত করব; আর যারা শেরক করত তাদেরকে বলবঃ তোমরা এবং তোমাদের শরীকরা নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে যাও-অতঃপর তাদেরকে পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন করে দেব, তখন তাদের শরীকরা বলবে, তোমরা তো আমাদের উপাসনা-বন্দেগী করনি।
29فَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِن كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغَافِلِينَ
বস্তুতঃ আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। আমরা তোমাদের বন্দেগী সম্পর্কে জানতাম না।
30هُنَالِكَ تَبْلُو كُلُّ نَفْسٍ مَّا أَسْلَفَتْ ۚ وَرُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ ۖ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
সেখানে প্রত্যেকে যাচাই করে নিতে পারবে যা কিছু সে ইতিপূর্বে করেছিল এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে যিনি তাদের প্রকৃত মালিক, আর তাদের কাছ থেকে দূরে যেতে থাকবে যারা মিথ্যা বলত।
ইউনুসকুরআন সূচী
109আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
28আয়াত

অনুবাদ — ইউনুস 28

সূরা ইউনুস আয়াত 28 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে সমবেত করব; আর যারা শেরক…

সূরা আয়াত 28/109 — সূরা ইউনুস يونس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ইউনুস শুনুন, সূরা ইউনুস অনুবাদ, সূরা ইউনুস mp3, সূরা ইউনুস pdf. আয়াত 26–30. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না