أُمَّةً وَاحِدَةً – একটিমাত্র জাতি বা দল, অর্থাৎ সবাই একই ধর্ম ও পথের অনুসারী।
لَا يَزَالُونَ – তারা সর্বদা থাকবে, বিরত থাকবে না।
مُخْتَلِفِينَ – বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত, পরস্পর বিরোধী।
তাফসীর:
হে নবী! আপনার রব যদি চাইতেন, তবে তিনি সমগ্র মানবজাতিকে একটিমাত্র জাতিতে পরিণত করতে পারতেন—সবাই একই ধর্মে, একই পথে, অর্থাৎ ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকত। কিন্তু তিনি তা করেননি; বরং তাঁর প্রজ্ঞাময় ইচ্ছায় মানুষ সর্বদা মতভেদ ও বিভেদে লিপ্ত থাকবে। এই পার্থক্য শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, বরং জীবনদর্শন, চিন্তাধারা ও কর্মপদ্ধতিতেও বিদ্যমান। কেউ সত্য গ্রহণ করবে, কেউ অস্বীকার করবে; কেউ হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে, কেউ পথভ্রষ্ট থাকবে। কারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে প্রবৃত্তির অনুসরণ, হঠকারিতা ও অন্যায়ের প্রতি ঝোঁক। আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে ইচ্ছাশক্তি ও বিবেক দিয়েছেন, আর এই ইচ্ছাশক্তির কারণেই তারা সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে। তবে এ বিভেদ চিরস্থায়ী নয়; কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন এবং সত্যের উপর যারা ছিল তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন, আর মিথ্যার উপর যারা ছিল তাদেরকে শাস্তি দেবেন।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
মানুষের মধ্যে মতভেদ আল্লাহর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞার অংশ। এটি দেখায় যে, মানুষের জন্য পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার সুযোগ রয়েছে—কে সত্য গ্রহণ করে এবং কে তা প্রত্যাখ্যান করে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং বিভেদ সত্ত্বেও হক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা মুমিনের কর্তব্য। বিভেদ দেখে হতাশ হওয়া উচিত নয়।
আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে—তিনি চাইলে সবাইকে এক পথে আনতে পারতেন, কিন্তু তাঁর হিকমতেই তিনি এমনটি করেননি।
এটি আমাদেরকে ধৈর্য ও সহনশীলতা শেখায়—অন্যদের ভিন্ন মতকে সম্মান করতে হবে, তবে সত্য ও ন্যায়ের উপর অটল থাকতে হবে।
শেষ বিচারের প্রতি ঈমান আনা আমাদেরকে সান্ত্বনা দেয় যে, এই পার্থক্যের চূড়ান্ত মীমাংসা আল্লাহই করবেন, এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।
কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।
তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব।
আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যদ্দ্বারা তোমার অন্তরকে মজবুত করছি। আর এভাবে তোমার নিকট মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য নসীহত ও স্বরণীয় বিষয়বস্তু এসেছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।