আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لِيُهْلِكَ – ধ্বংস করতে
الْقُرَى – জনপদসমূহ (এখানে উদ্দেশ্য জনপদের অধিবাসীরা)
بِظُلْمٍ – অত্যাচার/যুলুমের কারণে (অর্থাৎ তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা)
مُصْلِحُونَ – সংস্কারকারী/সৎকর্মপরায়ণ
তাফসীর:
হে নবী! আপনার রব এমন নন যে, তিনি জনপদসমূহকে ধ্বংস করবেন, যখন তাদের অধিবাসীরা সৎকর্মপরায়ণ ও সংস্কারকারী হয়—যারা জমিনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে, ফাসাদ ও অন্যায় থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেন না এবং তাদের ধ্বংস করেন না। বরং তিনি কেবল তখনই জনপদ ধ্বংস করেন, যখন তার অধিবাসীরা কুফরি, শিরক, জুলুম ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে ধ্বংস কখনো অন্যায়ভাবে হয় না; এটি সর্বদা তাদের নিজেদের কর্মফল। যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতি রহমতশীল ও ধ্বংস থেকে রক্ষাকারী।
ফায়দা:
এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু। তিনি কখনো বান্দার প্রতি জুলুম করেন না এবং সৎকর্মশীলদের ধ্বংস করেন না। এটি আল্লাহর প্রতি আমাদের আস্থা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
এটি আমাদের শেখায় যে, সমাজের সংস্কার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে জাতি নিজেদের মধ্যে সৎকর্ম, ন্যায়বিচার ও সংস্কার চর্চা করে, আল্লাহ তাদের ওপর শাস্তি নাজিল করেন না।
আয়াতটি আমাদেরকে পাপাচার, জুলুম ও ফাসাদ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়, কারণ ধ্বংসের কারণ হলো নিজেদের কৃতকর্ম, আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।
এটি মুমিনদের জন্য সুসংবাদ যে, তারা যদি ঈমান ও সৎকর্মে অটল থাকে, তবে আল্লাহ তাদের হেফাজত করবেন এবং বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবেন। এটি ইসলামের প্রতি মানুষের আস্থা ও আকর্ষণ বাড়ায়।
কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।
তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।