ইব্রাহীম · 44/52
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ইব্রাহীম
وَأَنذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخِّرْنَا إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ نُّجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ ۗ أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُم مِّن قَبْلُ مَا لَكُم مِّن زَوَالٍ ۝٤٤
Wa anzirin naasa Yawma yaateehimul `azaabu fa yaqoolul lazeena zalamoo Rabbanaaa akhkhirnaaa ilaaa ajalin qareebin nujib da`wataka wa nattabi `ir Rusul; awalam takoonooo aqsamtum min qablu maa lakum min zawaal
📖 বাংলা অর্থ
মানুষকে ঐ দিনের ভয় প্রদর্শন করুন, যেদিন তাদের কাছে আযাব আসবে। তখন জালেমরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে সামান্য মেয়াদ পর্যন্ত সময় দিন, যাতে আমরা আপনার আহবানে সাড়া দিতে এবং পয়গম্বরগণের অনুসরণ করতে পারি। তোমরা কি ইতোপূর্বে কসম খেতে না যে, তোমাদেরকে দুনিয়া থেকে যেতে হবে না?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَأَنذِرِ — সতর্ক করুন, ভয় দেখান।
  • الْعَذَابُ — শাস্তি (এখানে কিয়ামতের শাস্তি)।
  • ظَلَمُوا — যারা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছে (অর্থাৎ কুফরি ও শিরকে লিপ্ত হয়েছে)।
  • أَخِّرْنَا — আমাদেরকে অবকাশ দিন, পিছিয়ে দিন।
  • أَجَلٍ قَرِيبٍ — নিকটবর্তী সময় (অর্থাৎ দুনিয়ায় ফিরে যাওয়া)।
  • نُّجِبْ دَعْوَتَكَ — আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব (একত্ববাদের আহ্বানে)।
  • أَقْسَمْتُم — তোমরা শপথ করেছিলে।
  • زَوَال — ধ্বংস, শেষ হয়ে যাওয়া, স্থানচ্যুতি।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি মানুষকে সেই দিনের ভয় দেখান, যেদিন তাদের কাছে আল্লাহর শাস্তি এসে উপস্থিত হবে — অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। সেদিন যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে (অর্থাৎ কুফরি ও শিরকের মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংস করেছে), তারা চিৎকার করে বলবে, “হে আমাদের রব! আমাদেরকে সামান্য সময়ের জন্য অবকাশ দিন, আমাদেরকে দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন। আমরা আপনার একত্ববাদের ডাকে সাড়া দেব এবং আপনার প্রেরিত রাসূলদের অনুসরণ করব।”

কিন্তু তাদের এই আবেদনের জবাবে তাদেরকে তিরস্কার করে বলা হবে, “তোমরা কি আগে (দুনিয়ায়) শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের কখনো মৃত্যু নেই, তোমাদেরকে দুনিয়া থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত হতে হবে না? তোমরা কি পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেছিলে? আজ তোমরা সেই মিথ্যা শপথের ফল ভোগ করছ।”

অর্থাৎ, দুনিয়ায় তারা যখন সুস্থ-সবল ছিল, তখন তারা কিয়ামত ও পুনরুত্থানকে মিথ্যা মনে করত এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত যে, তাদের কখনো ধ্বংস বা মৃত্যু নেই। কিন্তু আজ যখন তারা মৃত্যুর পরের শাস্তি নিজ চোখে দেখছে, তখন তারা ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে — কিন্তু তা আর সম্ভব নয়।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. দুনিয়ার জীবনই শেষ সুযোগ: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার জীবনই হলো তাওবা ও আমল করার একমাত্র সুযোগ। মৃত্যুর পর আর ফিরে আসার কোনো পথ নেই। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর আনুগত্য করা উচিত।
  2. কুফরি ও শিরকের পরিণাম: যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে এবং তাঁর সাথে শরিক করে, তারা কিয়ামতের দিন চরম আফসোস ও লজ্জার সম্মুখীন হবে। তখন তাদের আকুতি-মিনতিও গ্রহণ করা হবে না।
  3. মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস: এই আয়াত মৃত্যু ও পুনরুত্থানের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখার গুরুত্ব শেখায়। যারা এই বিশ্বাস রাখে, তারা দুনিয়ায় সতর্ক থাকে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে।
  4. তাওবার সময় সীমিত: আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা, কিন্তু মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত। মৃত্যুর পর তাওবা বা ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাই দেরি না করে আজই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।
  5. রাসূলদের অনুসরণের গুরুত্ব: আয়াতে স্পষ্ট যে, কিয়ামতের দিন তারা বলবে, “আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব।” কিন্তু তখন তা অর্জন করা যাবে না। তাই এখনই রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করা আমাদের কর্তব্য, যাতে সেই দিন আমাদের কোনো আফসোস না থাকে।


📜 আয়াত 42-46 — সূরা ইব্রাহীম

42وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ
জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে।
43مُهْطِعِينَ مُقْنِعِي رُءُوسِهِمْ لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ ۖ وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ
তারা মস্তক উপরে তুলে ভীত-বিহবল চিত্তে দৌড়াতে থাকবে। তাদের দিকে তাদের দৃষ্টি ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর উড়ে যাবে।
44وَأَنذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخِّرْنَا إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ نُّجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ ۗ أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُم مِّن قَبْلُ مَا لَكُم مِّن زَوَالٍ
মানুষকে ঐ দিনের ভয় প্রদর্শন করুন, যেদিন তাদের কাছে আযাব আসবে। তখন জালেমরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে সামান্য মেয়াদ পর্যন্ত সময় দিন, যাতে আমরা আপনার আহবানে সাড়া দিতে এবং পয়গম্বরগণের অনুসরণ করতে পারি। তোমরা কি ইতোপূর্বে কসম খেতে না যে, তোমাদেরকে দুনিয়া থেকে যেতে হবে না?
45وَسَكَنتُمْ فِي مَسَاكِنِ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ وَتَبَيَّنَ لَكُمْ كَيْفَ فَعَلْنَا بِهِمْ وَضَرَبْنَا لَكُمُ الْأَمْثَالَ
তোমরা তাদের বাসভূমিতেই বসবাস করতে, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে এবং তোমাদের জানা হয়ে গিয়েছিল যে, আমি তাদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছি এবং আমি তোমাদেরকে ওদের সব কাহিনীই বর্ণনা করেছি।
46وَقَدْ مَكَرُوا مَكْرَهُمْ وَعِندَ اللَّهِ مَكْرُهُمْ وَإِن كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ
তারা নিজেদের মধ্যে ভীষণ চক্রান্ত করে নিয়েছে এবং আল্লাহর সামনে রক্ষিত আছে তাদের কু-চক্রান্ত। তাদের কুটকৌশল পাহাড় টলিয়ে দেয়ার মত হবে না।
ইব্রাহীমকুরআন সূচী
52আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
44আয়াত

অনুবাদ — ইব্রাহীম 44

সূরা ইব্রাহীম আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : মানুষকে ঐ দিনের ভয় প্রদর্শন করুন, যেদিন তাদের কাছে আযাব…

সূরা আয়াত 44/52 — সূরা ইব্রাহীম إبراهيم (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ইব্রাহীম শুনুন, সূরা ইব্রাহীম অনুবাদ, সূরা ইব্রাহীম mp3, সূরা ইব্রাহীম pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না