Awalam yaraw annal laahal lazee khalaqas samaawaati wal arda qaadirun `alaaa any yakhluqa mislahum wa ja`ala lahum ajalal laa raiba fee; fa abaz zaalimoona illaa kufooraa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
क्या उन लोगों ने इस पर भी नहीं ग़ौर किया कि वह ख़ुदा जिसने सारे आसमान और ज़मीन बनाए इस पर भी (ज़रुर) क़ादिर है कि उनके ऐसे आदमी दोबारा पैदा करे और उसने उन (की मौत) की एक मियाद मुक़र्रर कर दी है जिसमें ज़रा भी शक़ नहीं उस पर भी ये ज़ालिम इन्कार किए बग़ैर न रहे
তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَوَلَمْ يَرَوْا – তারা কি দেখে না / উপলব্ধি করে না?
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত ও পুনরুত্থান অস্বীকারকারী মুশরিকদের যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তারা কি চিন্তা করে দেখেনি যে, সেই মহান স্রষ্টা যিনি এত বিশাল ও সুবিশাল আসমানসমূহ এবং পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন—যার সৃষ্টি কোনো নমুনা বা পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই হয়েছে—তিনি কি তাদের মতো ছোট ও দুর্বল মানুষকে আবার সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই তিনি সক্ষম। যে স্রষ্টা এত বড় বড় সৃষ্টি করতে পারেন, তার জন্য মানুষের পুনরুজ্জীবন তো আরও সহজ।
আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন—মৃত্যুর সময় এবং পুনরুত্থানের সময়—যাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সময় অবশ্যই আসবে। কিন্তু এই স্পষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা সত্ত্বেও জালিমরা (সত্যকে গোপনকারী ও সীমালঙ্ঘনকারীরা) শুধু অস্বীকৃতিই প্রকাশ করল। তারা জেনে-বুঝে, একগুঁয়েমির সাথে সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করল। তাদের অন্তর সত্য উপলব্ধি করলেও তারা অহংকার ও জিদের কারণে কুফরি করতে থাকল।
ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):
স্রষ্টার ক্ষমতার প্রতি দৃষ্টি: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর ক্ষমতার সামনে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। যিনি এত বড় মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তিনি আমাদের পুনরুত্থানও অবশ্যই করবেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর ক্ষমতার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
সত্যকে মেনে নেওয়ার শিক্ষা: জালিমরা যখন স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েও সত্য মেনে নেয়নি, তখন আমাদের উচিত সত্য যত কঠিনই হোক না কেন, তা বিনয়ের সাথে মেনে নেওয়া। অহংকার ও জিদ কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।
আখিরাতের প্রতি ঈমান: এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি মানুষের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, যা অবশ্যম্ভাবী। এই স্মরণ আমাদেরকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং নেক আমল করতে অনুপ্রাণিত করে।
কুফরি ও জিদের পরিণতি: যারা সত্য জানার পরও তা প্রত্যাখ্যান করে, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে। আল্লাহর কোনো ক্ষতি হয় না। তাই আমাদের উচিত সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং অন্যকে সত্যের দিকে আহ্বান করা।
আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই তো সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্যে আপনি আল্লাহ ছাড়া কোন সাহায্যকারী পাবেন না। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব।
এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?
তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।
আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।