Kulu nafsin zaaa`iqatul mawt; wa innamaa tuwaffawna ujoorakum Yawmal Qiyaamati faman zuhziha `anin Naari waudkhilal Jannata faqad faaz; wa mal hayaatud dunyaaa illaa mataa`ul ghuroor
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
हर जान एक न एक (दिन) मौत का मज़ा चखेगी और तुम लोग क़यामत के दिन (अपने किए का) पूरा पूरा बदला भर पाओगे पस जो शख्स जहन्नुम से हटा दिया गया और बहिश्त में पहुंचा दिया गया पस वही कामयाब हुआ और दुनिया की (चन्द रोज़ा) ज़िन्दगी धोखे की टट्टी के सिवा कुछ नहीं
প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
ذَائِقَةُ الْمَوْتِ – মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী, অর্থাৎ মৃত্যুকে অবশ্যই আস্বাদন করতে হবে।
প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবেই—এটি সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয় সত্য। কেউই এই নিয়মের বাইরে নয়। মৃত্যুর পর সকলেই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে এবং কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে—ভালো কাজের জন্য ভালো প্রতিদান, মন্দ কাজের জন্য মন্দ প্রতিদান। সেদিন কারো প্রতিদান কমিয়ে দেওয়া হবে না বা কারো প্রতি জুলুম করা হবে না।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন—যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত সফলকাম। কারণ জান্নাতই হলো চূড়ান্ত সাফল্য এবং জাহান্নামই হলো চূড়ান্ত ব্যর্থতা। এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছু হতে পারে না।
অপরদিকে, দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন—এটি কেবল প্রতারণার সাময়িক উপকরণ। দুনিয়ার সুখ-সম্পদ, ক্ষমতা-প্রতিপত্তি সবই ক্ষণস্থায়ী এবং মৃত্যুর পর এসবের কোনো মূল্য থাকে না। যে ব্যক্তি এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে চিরস্থায়ী আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দেয়, সে আসলে নিজের ক্ষতিই ডেকে আনে। প্রকৃত জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়াকে আখিরাতের পথে সোপান বানায়, দুনিয়াকে লক্ষ্য বানায় না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মৃত্যু একটি অনিবার্য সত্য—এতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত মৃত্যুর আগে নিজের আমলকে সংশোধন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
কিয়ামতের দিন প্রতিটি কাজের পূর্ণ হিসাব নেওয়া হবে। এই বিশ্বাস মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সততা সৃষ্টি করে এবং অন্যায়-অত্যাচার থেকে বিরত রাখে।
জান্নাত লাভই প্রকৃত সাফল্য। দুনিয়ার যেকোনো অর্জন—ধন-সম্পদ, পদমর্যাদা, খ্যাতি—জান্নাতের তুলনায় নগণ্য। তাই মুমিনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত জান্নাত অর্জন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী ও প্রতারক। এর মোহে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। দুনিয়াকে উচিত ব্যবহার করা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী, যেন তা আখিরাতের সাফল্যের মাধ্যম হয়।
এই আয়াত মুমিনের অন্তরে আখিরাতমুখী চিন্তা জাগ্রত করে এবং দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমিয়ে আল্লাহর দিকে ধাবিত করে। এটি মুমিনকে ধৈর্য, তাকওয়া ও নেক আমলের পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করে।
সে সমস্ত লোক, যারা বলে যে, আল্লাহ আমাদিগকে এমন কোন রসূলের ওপর বিশ্বাস না করতে বলে রেখেছেন যতক্ষণ না তারা আমাদের নিকট এমন কোরবানী নিয়ে আসবেন যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে। তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং তোমরা যা আব্দার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
তাছাড়া এরা যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তোমার পূর্বেও এরা এমন বহু নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যারা নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিলেন। এবং এনেছিলেন সহীফা ও প্রদীপ্ত গ্রন্থ।
প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।
অবশ্য ধন-সম্পদে এবং জনসম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্য তোমরা শুনবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছে এবং মুশরেকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং পরহেযগারী অবলম্বন কর, তবে তা হবে একান্ত সৎসাহসের ব্যাপার।
আর আল্লাহ যখন আহলে কিতাবদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলেন যে, তা মানুষের নিকট বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না, তখন তারা সে প্রতিজ্ঞাকে নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল আর তার কেনা-বেচা করল সামান্য মূল্যের বিনিময়ে। সুতরাং কতই না মন্দ তাদের এ বেচা-কেনা।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।