সাদ · 3/88
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা সাদ
كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّن قَرْنٍ فَنَادَوا وَّلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ ۝٣
Kam ahlaknaa min qablihim min qarnin fanaadaw wa laata heena manaas
📖 বাংলা অর্থ
তাদের আগে আমি কত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, অতঃপর তারা আর্তনাদ করতে শুরু করেছে কিন্তু তাদের নিষ্কৃতি লাভের সময় ছিল না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • কাম (كَمْ): কত বেশি/অনেক।
  • আহলাকনা (أَهْلَكْنَا): আমরা ধ্বংস করেছি।
  • ক্বার্ন (قَرْنٍ): জাতি/সম্প্রদায় (একই যুগে বসবাসকারী মানুষ)।
  • ফানাদাউ (فَنَادَوْا): তখন তারা চিৎকার করে ডাকল/কাতর প্রার্থনা করল।
  • ওয়া লাতা (وَلَاتَ): নয়/না (অস্বীকার অর্থে)।
  • হীন (حِينَ): সময়/মুহূর্ত।
  • মানাস (مَنَاصٍ): পলায়নের স্থান/মুক্তির উপায়, নিষ্কৃতি।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এখানে কুরাইশ কাফিরদের সতর্ক করে বলছেন: তাদের আগে বহু জাতি ছিল যারা তাদের নবীদেরকে মিথ্যা বলেছে এবং সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। যখন তাদের উপর আযাব নেমে এসেছে, তখন তারা ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠে এবং সাহায্য প্রার্থনা করে। তারা ঈমান আনার বা তওবা করার চেষ্টা করে, কিন্তু তখন আর কোনো উপকার হয়নি। কারণ, আযাব আসার পর তওবা কবুলের সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেদিন তাদের জন্য পালানোর কোনো জায়গা ছিল না, কোনো আশ্রয়স্থল ছিল না, আর কোনো মুক্তির পথও খোলা ছিল না। তাদের সেই আহাজারি, সেই চিৎকার কোনো কাজে আসেনি। যেমনটি অন্য আয়াতে বলা হয়েছে: "যখন আমার আযাব আসল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো কাজে আসল না।" (সূরা গাফির: ৮৫)

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ কাফিরদের সতর্ক করছেন যে, আজ তারা যদি সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের পরিণতিও পূর্ববর্তী জাতিদের মতোই হবে। যখন মৃত্যু বা আযাব আসবে, তখন আর তওবা বা ফিরে আসার সুযোগ পাবে না।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আযাব আসার আগেই তওবা করা: আল্লাহর আযাব নেমে আসার আগেই আমাদের উচিত তওবা করা এবং সত্যকে মেনে নেওয়া। আযাব আসার পর তওবা আর কবুল হয় না।
  2. কুরআন ও রাসূলের (সা.) নির্দেশনা মান্য করা: পূর্ববর্তী জাতিরা নবীদের কথা না মানার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা।
  3. আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্ক থাকা: আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু, কিন্তু তিনি কঠোর শাস্তিদাতাও। তাঁর অবাধ্যতা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যারা তাঁর নাফরমানি করে, তাদের কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই।
  4. দুনিয়ার জীবনের সুযোগের মূল্যায়ন: এই দুনিয়ার জীবনই হলো তওবা ও সৎকর্ম করার একমাত্র সুযোগ। মৃত্যুর পর বা আযাব আসার পর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা উচিত।
  5. অহংকার ও সত্য প্রত্যাখ্যানের পরিণাম: যারা অহংকারবশত সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। তাদের কোনো সাহায্যকারী বা রক্ষাকারী থাকবে না।


📜 আয়াত 1-5 — সূরা সাদ

1ص ۚ وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ
ছোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের,
2بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ
বরং যারা কাফের, তারা অহংকার ও বিরোধিতায় লিপ্ত।
3كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّن قَرْنٍ فَنَادَوا وَّلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ
তাদের আগে আমি কত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, অতঃপর তারা আর্তনাদ করতে শুরু করেছে কিন্তু তাদের নিষ্কৃতি লাভের সময় ছিল না।
4وَعَجِبُوا أَن جَاءَهُم مُّنذِرٌ مِّنْهُمْ ۖ وَقَالَ الْكَافِرُونَ هَٰذَا سَاحِرٌ كَذَّابٌ
তারা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদেরই কাছে তাদের মধ্যে থেকে একজন সতর্ককারী আগমন করেছেন। আর কাফেররা বলে এ-তো এক মিথ্যাচারী যাদুকর।
5أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَٰهًا وَاحِدًا ۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ
সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্যের উপাসনা সাব্যস্ত করে দিয়েছে। নিশ্চয় এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার।
সাদকুরআন সূচী
88আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
3আয়াত

অনুবাদ — সাদ 3

সূরা সাদ আয়াত 3 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের আগে আমি কত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, অতঃপর তারা আর্তনাদ…

সূরা আয়াত 3/88 — সূরা সাদ ص (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা সাদ শুনুন, সূরা সাদ অনুবাদ, সূরা সাদ mp3, সূরা সাদ pdf. আয়াত 1–5. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না