Wa qawlihim innaa qatal nal maseeha `Eesab-na-Maryama Rasoolal laahi wa maa qataloohu wa maa salaboohu wa laakin shubbiha lahum; wa innal lazeenakh talafoo fee lafee shakkim minh; maa lahum bihee min `ilmin illat tibaa`az zann; wa maa qataloohu yaqeenaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और उनके यह कहने की वजह से कि हमने मरियम के बेटे ईसा (स.) ख़ुदा के रसूल को क़त्ल कर डाला हालॉकि न तो उन लोगों ने उसे क़त्ल ही किया न सूली ही दी उनके लिए (एक दूसरा शख्स ईसा) से मुशाबेह कर दिया गया और जो लोग इस बारे में इख्तेलाफ़ करते हैं यक़ीनन वह लोग (उसके हालत) की तरफ़ से धोखे में (आ पड़े) हैं उनको उस (वाक़िये) की ख़बर ही नहीं मगर फ़क्त अटकल के पीछे (पड़े) हैं और ईसा को उन लोगों ने यक़ीनन क़त्ल नहीं किया
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
شُبِّهَ لَهُمْ – তাদের কাছে তাকে (অন্য একজনের) সাদৃশ্যপূর্ণ দেখানো হয়েছিল।
يَقِينًا – নিশ্চিতভাবে, দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে।
তাফসির:
আয়াতে ইয়াহুদীদের আরেকটি জঘন্য অপরাধ ও মিথ্যা দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা গর্ব ও ঠাট্টা-বিদ্রূপের সুরে বলত, “আমরা আল্লাহর রাসূল, মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়ামকে হত্যা করেছি।” কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলিবদ্ধও করেনি। বরং আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ)-এর সাদৃশ্য অন্য একজনের উপর নিক্ষেপ করেছিলেন, ফলে লোকেরা তাকেই ঈসা মনে করে ধরে নিয়ে হত্যা ও শূলিবদ্ধ করে। ইয়াহুদীরা মনে করেছিল তারা ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা অন্য একজনকে হত্যা করেছিল।
যারা ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে মতভেদ করেছিল—কেউ বলত আমরা তাকে হত্যা করেছি, কেউ বলত আমরা তাকে শূলিবদ্ধ করেছি, আবার কেউ বলত তাকে হত্যা করা হয়নি বরং তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে—তারা সবাই তার ব্যাপারে সন্দেহ ও দ্বিধায় নিপতিত ছিল। তাদের কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য জ্ঞান ছিল না; তারা কেবল অনুমান ও ধারণার অনুসরণ করছিল। আর অনুমান কখনো সত্যের স্থান দখল করতে পারে না। তারা নিশ্চিতভাবে ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করেনি, বরং তারা ছিল সন্দেহ ও ভ্রান্ত ধারণার শিকার।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী ও রাসূলদেরকে শত্রুদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র ইয়াহুদীরা করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ তাঁর নবীদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
মিথ্যা দাবি ও অহংকার কখনো টেকে না। ইয়াহুদীরা গর্ব করে দাবি করেছিল যে, তারা আল্লাহর রাসূলকে হত্যা করেছে, কিন্তু আল্লাহ তাদের মিথ্যা প্রকাশ করে দিয়েছেন। সত্য সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং মিথ্যা ধ্বংস হয়।
অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ধর্মীয় বিষয়ে কেবল সত্য ও নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হবে। যারা অনুমানের অনুসরণ করে, তারা সত্য থেকে বিচ্যুত থাকে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে। ইয়াহুদীরা যতই চক্রান্ত করুক না কেন, আল্লাহ তাঁর নবীকে সম্মানিত করেছেন এবং তাকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। এটি মুমিনদের জন্য ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসার শিক্ষা দেয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে ঈসা (আঃ) একজন সম্মানিত নবী ও রাসূল। তাকে হত্যা করা হয়নি, বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। এই বিশ্বাস মুসলিমদের জন্য ঈমানের অংশ।
অতএব, তারা যে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিল, তা ছিল তাদেরই অঙ্গীকার ভঙ্গর জন্য এবং অন্যায়ভাবে রসূলগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির দরুন যে, আমাদের হৃদয় আচ্ছন্ন। অবশ্য তা নয়, বরং কুফরীর কারণে স্বয়ং আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন। ফলে এরা ঈমান আনে না কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।