ফুসসিলাত · 18/54
অনুবাদ উচ্চারণ — ফুসসিলাত
وَنَجَّيۡنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ  ۝١٨
Wa najjainal lazeena aamanoo wa kaanoo yattaqoon
📖 বাংলা অর্থ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল ও সাবধানে চলত, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম।
📜

অনুবাদ — Tafsir

মূল শব্দের অর্থ:

  • নাজ্জাইনা (নাজাত দিয়েছি): রক্ষা করেছি, মুক্তি দিয়েছি।
  • আমানু (ঈমান এনেছিল): আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল।
  • ইয়াত্তাকুন (তাকওয়া অবলম্বন করত): আল্লাহভীতি সহকারে তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকত।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী জাতিগুলোর (আদ ও সামুদ) উপর আসা ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করার পর ঘোষণা করছেন যে, তিনি সেই সমস্ত লোকদেরকে রক্ষা করেছেন যারা ঈমান এনেছিল এবং তাকওয়া অবলম্বন করত। অর্থাৎ, যারা আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ হিসেবে মেনে নিয়েছিল, তাঁর রাসূলদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং নিজেদের জীবনে আল্লাহভীতি ও সংযমকে পাথেয় করে তুলেছিল—তারাই কেবল সেই ধ্বংসাত্মক আযাব থেকে নিরাপদে ছিল। অন্যরা যখন নিজেদের কুফরি ও পাপাচারের কারণে শাস্তিতে নিপতিত হলো, তখন এই মুমিন ও মুত্তাকিরা আল্লাহর বিশেষ রহমতে রক্ষা পেল। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর শাস্তি সাধারণত সমগ্র জাতির উপর আসে, কিন্তু তিনি তার মধ্যে থেকে সৎকর্মশীল ও বিশ্বাসী মানুষদেরকে আগেই আলাদা করে নেন এবং তাদেরকে নিরাপত্তা দান করেন। এই আয়াতে ঈমান ও তাকওয়ার সমন্বয়কে নাজাতের মূল শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—শুধু মুখে ঈমান বলা যথেষ্ট নয়, বরং সাথে তাকওয়া তথা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলাও জরুরি।

শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:

  1. ঈমান ও তাকওয়া হলো বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির একমাত্র অবলম্বন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর সত্যিকারের বিশ্বাস রাখে এবং তাঁর ভয়ে পাপাচার থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে যেকোনো সংকট থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন।
  2. আল্লাহর শাস্তি যখন আসে, তখন তা সাধারণত সকলকে ঘিরে ফেলে, কিন্তু তিনি তার নিজের বান্দাদের মধ্যে যারা সৎ, তাদেরকে বিশেষভাবে রক্ষা করেন। এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভরসা বৃদ্ধি করে।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সমাজে অন্যায়-অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লেও আমাদের কর্তব্য নিজেদের ঈমান ও তাকওয়াকে অটুট রাখা। কারণ, একমাত্র এর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারব।
  4. তাকওয়ার অর্থ শুধু নামাজ-রোজা পালন নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা। এই গুণই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।
  5. এই আয়াত মুমিনদের জন্য সুসংবাদ যে, আল্লাহ তাদের প্রচেষ্টা কখনো বিফলে যেতে দেন না। বিপদের সময়ও তিনি তাদের জন্য নাজাতের পথ তৈরি করে রাখেন, যেমনটি পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে ঘটেছিল।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 16-20 — ফুসসিলাত

16فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِيحًا صَرۡصَرًا فِيٓ أَيَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِيقَهُمۡ عَذَابَ ٱلۡخِزۡيِ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَعَذَابُ ٱلۡأٓخِرَةِ أَخۡزَىٰۖ وَهُمۡ لَا يُنصَرُونَ 
অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
17وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيۡنَٰهُمۡ فَٱسۡتَحَبُّواْ ٱلۡعَمَىٰ عَلَى ٱلۡهُدَىٰ فَأَخَذَتۡهُمۡ صَٰعِقَةُ ٱلۡعَذَابِ ٱلۡهُونِ بِمَا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ 
আর যারা সামূদ, আমি তাদেরকে প্রদর্শন করেছিলাম, অতঃপর তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধ থাকাই পছন্দ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে অবমাননাকর আযাবের বিপদ এসে ধৃত করল।
18وَنَجَّيۡنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ 
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল ও সাবধানে চলত, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম।
19وَيَوۡمَ يُحۡشَرُ أَعۡدَآءُ ٱللَّهِ إِلَى ٱلنَّارِ فَهُمۡ يُوزَعُونَ 
যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে। এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে।
20حَتَّىٰٓ إِذَا مَا جَآءُوهَا شَهِدَ عَلَيۡهِمۡ سَمۡعُهُمۡ وَأَبۡصَٰرُهُمۡ وَجُلُودُهُم بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 
তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চক্ষু ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীRevelation
18আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 18

সূরা আয়াত 18/54 — ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ফুসসিলাত শুনুন, ফুসসিলাত অনুবাদ, ফুসসিলাত mp3, ফুসসিলাত pdf. আয়াত 16–20. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না