Yaa qawmid khulul Ardal MMuqaddasatal latee katabal laahu lakum wa laa tartaddoo `alaaa adbaarikum fatanqaliboo khaasireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ मेरी क़ौम (शाम) की उस मुक़द्दस ज़मीन में जाओ जहॉ ख़ुदा ने तुम्हारी तक़दीर में (हुकूमत) लिख दी है और दुशमन के मुक़ाबले पीठ न फेरो (क्योंकि) इसमें तो तुम ख़ुद उलटा घाटा उठाओगे
হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ – পবিত্র ভূমি, অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) ও তার আশপাশের এলাকা।
كَتَبَ اللهُ لَكُمْ – আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য তা নির্ধারণ করেছেন (তওরাতে বা লাওহে মাহফুজে)।
لَا تَرْتَدُّوا عَلَىٰ أَدْبَارِكُمْ – তোমরা পশ্চাদপসরণ করো না, অর্থাৎ শত্রুর ভয়ে পিছু হটো না।
فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ – তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে (দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের ক্ষতিতে)।
তাফসীর:
হযরত মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বললেন: “হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।” এই পবিত্র ভূমি হলো বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) এবং তার চারপাশের এলাকা। আল্লাহ তা‘আলা তওরাতে এবং লাওহে মাহফুজে পূর্ব থেকেই এই ভূমি তাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তবে শর্ত ছিল—তাদেরকে সেখানে প্রবেশ করতে হবে এবং সেখানকার কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে।
এরপর মূসা (আঃ) তাদের সতর্ক করে বলেন: “তোমরা শত্রুদের ভয়ে পিছু হটো না, যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যেও না। কারণ, যদি তোমরা পশ্চাদপসরণ করো, তবে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুনিয়ায় তোমরা অপমানিত হবে এবং আল্লাহর প্রতিশ্রুত ভূমি থেকে বঞ্চিত হবে; আর আখিরাতে তোমাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।”
এই নির্দেশ ছিল স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট—তাদেরকে সাহস ও দৃঢ়তার সাথে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত ভূমিতে প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, তারা কাপুরুষতা দেখিয়ে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিল, যার ফলে তারা আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল এবং চল্লিশ বছর প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছিল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য যে কল্যাণ নির্ধারণ করেন, তা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সাহস, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা। ভীরুতা ও পশ্চাদপসরণ কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না।
মুমিনের জীবনে লক্ষ্য স্থির থাকা আবশ্যক। যখন আল্লাহ কোনো কাজের আদেশ দেন, তখন তা পালনে দ্বিধা করা উচিত নয়, এমনকি পথে বাধা-বিপত্তি এলেও।
দুনিয়ার স্বার্থ ও আখিরাতের সাফল্য উভয়ই আল্লাহর আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ পালনে পিছপা হয়, সে উভয় জগতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।
নেতা বা পথপ্রদর্শকের কথা মনোযোগ সহকারে শোনা এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা উম্মতের সফলতার চাবিকাঠি। মূসা (আঃ)-এর নির্দেশ অমান্য করার কারণেই বনী ইসরাঈল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দ্বীনের কাজে, সাহসিকতা ও অটলতা অপরিহার্য। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে গেলে তিনি অবশ্যই সাহায্য করেন, আর পিছু হটলে ক্ষতি অনিবার্য।
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।
যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।
হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
তারা বললঃ হে মূসা, সেখানে একটি প্রবল পরাক্রান্ত জাতি রয়েছে। আমরা কখনও সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে নিশ্চিতই আমরা প্রবেশ করব।’
খোদাভীরুদের মধ্য থেকে দু’ব্যক্তি বলল, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেনঃ তোমরা তাদের উপর আক্রমণ করে দরজায় প্রবেশ কর। অতঃপর তোমরা যখন তাতে পবেশ করবে, তখন তোমরাই জয়ী হবে। আর আল্লাহর উপর ভরসা কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।