ইউনুস · 35/109
অনুবাদ উচ্চারণ — ইউনুস
قُلْ هَلْ مِن شُرَكَائِكُم مَّن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ ۚ قُلِ اللَّهُ يَهْدِي لِلْحَقِّ ۗ أَفَمَن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لَّا يَهِدِّي إِلَّا أَن يُهْدَىٰ ۖ فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ ۝٣٥
Qul hal min shurakaaa `ikum mai yahdeee ilal haqq; qulil laahu yahdee lilhaqq; afamai yahdeee ilal haqqi ahaqqu ai yuttaba`a ammal laa yahiddeee illaaa ai yuhdaa famaa lakum kaifa tahkumoon
📖 বাংলা অর্থ
জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করবে? বল, আল্লাহই সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য। অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ – সত্যের পথ দেখায়, সঠিক পথে পরিচালিত করে।
  • لَا يَهِدِّي – (এখানে অর্থ) নিজে সঠিক পথ পায় না, হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় না।
  • إِلَّا أَن يُهْدَى – যতক্ষণ না তাকে পথ দেখানো হয় বা কেউ তাকে সঠিক পথে আনে।
  • فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ – তোমাদের কী হলো, কীভাবে তোমরা এমন (অযৌক্তিক) সিদ্ধান্ত দাও?

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে নবী! আপনি এই মুশরিকদের জিজ্ঞেস করুন, “তোমাদের সেই অংশীদারদের মধ্যে (যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরিক করেছ) কেউ কি আছে যে সত্যের পথ দেখাতে পারে?” তারা এর উত্তর দিতে পারবে না, কারণ তাদের উপাস্যরা তো কোনো পথই দেখাতে পারে না। তখন আপনি বলুন, “আল্লাহই একমাত্র সত্যের পথ দেখান।” তিনি তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তাদের অন্তরে হেদায়েত দান করেন।

এরপর প্রশ্ন করুন, “যে সত্যের পথ দেখায়, সে কি অনুসরণ করার বেশি যোগ্য, নাকি সেই যে নিজেই পথ পায় না, বরং তাকে পথ দেখাতে হয়?” অর্থাৎ, মূর্তি বা উপাস্যরা তো নিজেরাই অচেতন, নড়াচড়া করতে পারে না, কেউ তাদের বহন করে নিয়ে যায়; তারা নিজে যেমন হেদায়েত পায় না, তেমনি অপরকে পথও দেখাতে পারে না। সুতরাং স্পষ্ট বুদ্ধিমান ব্যক্তিই বলবে যে, আল্লাহ—যিনি সত্যের পথ দেখান—তিনিই অনুসরণের সবচেয়ে বেশি হকদার। আর তোমরা যাদেরকে আল্লাহর অংশীদার বানিয়েছ, তারা তো সম্পূর্ণ অসহায় ও পথহারা।

অতএব, “তোমাদের কী হলো, কীভাবে তোমরা এমন বিচার কর?” অর্থাৎ, তোমরা যে আল্লাহ ও মূর্তিকে একই পর্যায়ে রেখে তাদেরকে অংশীদার বলছ, এটা সম্পূর্ণ ভুল ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। বুদ্ধি-বিবেকের দাবি হলো, যিনি সবকিছু করতে পারেন, তিনিই উপাসনার যোগ্য; আর যারা কিছুই পারে না, তারা কীভাবে উপাস্য হতে পারে?

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর একত্ব (তাওহিদ) প্রমাণের সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো তাঁর গুণাবলি—তিনিই একমাত্র পথপ্রদর্শক, তিনিই সবকিছুর মালিক। যে সত্যের পথ দেখায়, সে-ই অনুসরণের যোগ্য।
  2. বুদ্ধি-বিবেকের আলোকে চিন্তা করলে মানুষ সহজেই বুঝতে পারে যে, অচেতন ও শক্তিহীন বস্তুকে উপাস্য বানানো সম্পূর্ণ ভুল।
  3. ইসলামের দাওয়াতের পদ্ধতি হলো প্রশ্ন ও যুক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে সত্য উপলব্ধি করানো, যেমনটি এই আয়াতে করা হয়েছে।
  4. মানুষের উচিত তার সিদ্ধান্ত ও বিচার যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে করা, আর মনগড়া বা অন্ধবিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়।
  5. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের নির্দেশই একমাত্র সত্যের পথ, আর তা অনুসরণ করাই মানুষের সফলতার চাবিকাঠি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 33-37 — ইউনুস

33كَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ فَسَقُوا أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
এমনিভাবে সপ্রমাণিত হয়ে গেছে তোমার পরওয়ারদেগারের বাণী সেসব নাফরমানের ব্যাপারে যে, এরা ঈমান আনবে না।
34قُلْ هَلْ مِن شُرَكَائِكُم مَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۚ قُلِ اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ
বল, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মাঝে যে সৃষ্টি কে পয়দা করতে পারে এবং আবার জীবিত করতে পারে? বল, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং অতঃপর তার পুনরুদ্ভব করবেন। অতএব, কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?
35قُلْ هَلْ مِن شُرَكَائِكُم مَّن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ ۚ قُلِ اللَّهُ يَهْدِي لِلْحَقِّ ۗ أَفَمَن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لَّا يَهِدِّي إِلَّا أَن يُهْدَىٰ ۖ فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করবে? বল, আল্লাহই সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য। অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?
36وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا ۚ إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ
বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।
37وَمَا كَانَ هَٰذَا الْقُرْآنُ أَن يُفْتَرَىٰ مِن دُونِ اللَّهِ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই-তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে।
ইউনুসকুরআন সূচী
109আয়াত
মাক্কীRevelation
35আয়াত

অনুবাদ — ইউনুস 35

সূরা ইউনুস আয়াত 35 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য-সঠিক…

সূরা আয়াত 35/109 — ইউনুস يونس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইউনুস শুনুন, ইউনুস অনুবাদ, ইউনুস mp3, ইউনুস pdf. আয়াত 33–37. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না