ইউনুস · 68/109
অনুবাদ উচ্চারণ — ইউনুস
قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۖ هُوَ الْغَنِيُّ ۖ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ إِنْ عِندَكُم مِّن سُلْطَانٍ بِهَٰذَا ۚ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ۝٦٨
Qaalut takhazal laahu waladan Subhaanahoo Huwal Ghaniyyu lahoo maa fis samaawaati wa maa fil ard; in `indakum min sultaanim bihaazaaa; ataqooloona `alal laahi maa laa ta`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
তারা বলে, আল্লাহ পুত্র সাব্যস্ত করে নিয়েছেন-তিনি পবিত্র, তিনি অমুখাপেক্ষী। যাকিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে সবই তাঁর। তোমাদের কাছে তার কোন সনদ নেই। কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ কর-যার কোন সনদই তোমাদের কাছে নেই?
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • সুবহানাহু – তিনি পবিত্র, সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।
  • আল-গণী – তিনি সম্পদশালী, কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন।
  • সুলতান – প্রমাণ, দলিল, যুক্তি।
  • আতাকুলুনা – তোমরা কি বলছ? (এটি তিরস্কার ও ভর্ৎসনার অর্থে ব্যবহৃত)

তাফসীর:

মুশরিকরা বলেছিল, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলত, আবার কেউ কেউ বলত ‘উজায়র’ (আঃ) আল্লাহর পুত্র, আর খ্রিষ্টানরা বলত ‘ঈসা’ (আঃ) আল্লাহর পুত্র। আল্লাহ তা‘আলা এসব কথা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত। তিনি ঘোষণা করছেন— তিনি এ সকল মিথ্যা অপবাদ থেকে পবিত্র, কারণ তিনি সম্পদশালী, কারো কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কোনো সন্তানের প্রয়োজন নেই। আসমান ও জমিনের সমস্ত কিছু তাঁরই মালিকানাধীন এবং সবকিছুই তাঁর অনুগত বান্দা। সন্তান তো তখনই প্রয়োজন হয়, যখন কারো সাহায্য বা উত্তরাধিকারের প্রয়োজন থাকে; কিন্তু আল্লাহ তো এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “তোমাদের কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে এই মিথ্যা কথা বলার? তোমাদের কাছে কোনো দলিল নেই, কোনো যুক্তি নেই— শুধু অন্ধ অনুমান আর মনগড়া কথা।” শেষে তিনি তাদেরকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করে বলেন, “তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলছ যা তোমরা জানো না?” এটি তাদের জ্ঞানের অভাব ও নির্লজ্জ মিথ্যা বলার প্রকাশ্য প্রমাণ। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে জানে, সে কখনো তাঁর সম্পর্কে এমন অশোভন কথা বলতে পারে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র— এটি তাঁর জন্য অসম্ভব ও অশোভন। কারণ সন্তান গ্রহণ একটি প্রয়োজন ও অভাবের বিষয়, আর আল্লাহ কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন।
  2. আল্লাহর পরিচয় হলো— তিনি সম্পদশালী, সর্বশক্তিমান এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের মালিক। তাই তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা বা তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলা চরম অন্যায়।
  3. কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে প্রমাণ ও দলিল থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কথা বলতে হলে অবশ্যই কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে বলতে হবে।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও মনগড়া কথা বলা কত বড় অপরাধ। একজন মুমিনের উচিত আল্লাহ সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহ যা বলেছে তা-ই বিশ্বাস করা এবং এর বাইরে কোনো কথা না বলা।
  5. ইসলাম একটি যুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক ধর্ম। আল্লাহ আমাদেরকে অন্ধবিশ্বাস না করে প্রমাণসহ সত্য গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ যে, এটি জ্ঞান ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 66-70 — ইউনুস

66أَلَا إِنَّ لِلَّهِ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ ۗ وَمَا يَتَّبِعُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ شُرَكَاءَ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
শুনছ, আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আর এরা যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শরীকদের উপাসনার পেছনে পড়ে আছে-তা আসলে কিছুই নয়। এরা নিজেরই কল্পনার পেছনে পড়ে রয়েছে এবং এছাড়া আর কিছু নয় যে, এরা বুদ্ধি খাটাচ্ছে।
67هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَسْمَعُونَ
তিনি তোমাদের জন্য তৈরী করেছেন রাত, যাতে করে তোমরা তাতে প্রশান্তি লাভ করতে পার, আর দিন দিয়েছেন দর্শন করার জন্য। নিঃসন্দেহে এতে নিদর্শন রয়েছে সে সব লোকের জন্য যারা শ্রবণ করে।
68قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۖ هُوَ الْغَنِيُّ ۖ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ إِنْ عِندَكُم مِّن سُلْطَانٍ بِهَٰذَا ۚ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
তারা বলে, আল্লাহ পুত্র সাব্যস্ত করে নিয়েছেন-তিনি পবিত্র, তিনি অমুখাপেক্ষী। যাকিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে সবই তাঁর। তোমাদের কাছে তার কোন সনদ নেই। কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ কর-যার কোন সনদই তোমাদের কাছে নেই?
69قُلْ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
বলে দাও, যারা এরূপ করে তারা অব্যাহতি পায় না।
70مَتَاعٌ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِيقُهُمُ الْعَذَابَ الشَّدِيدَ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ
পার্থিবজীবনে সামান্যই লাভ, অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি তাদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন আযাব-তাদেরই কৃত কুফরীর বদলাতে।
ইউনুসকুরআন সূচী
109আয়াত
মাক্কীRevelation
68আয়াত

অনুবাদ — ইউনুস 68

সূরা ইউনুস আয়াত 68 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা বলে, আল্লাহ পুত্র সাব্যস্ত করে নিয়েছেন-তিনি পবিত্র, তিনি অমুখাপেক্ষী।…

সূরা আয়াত 68/109 — ইউনুস يونس (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইউনুস শুনুন, ইউনুস অনুবাদ, ইউনুস mp3, ইউনুস pdf. আয়াত 66–70. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না