تُجَادِلُ – বিতর্ক করা, নিজের পক্ষে ওজর-আপত্তি পেশ করা।
عَن نَّفْسِهَا – নিজের সত্তা সম্পর্কে (অর্থাৎ, নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়া)।
تُوَفَّى – পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে, সম্পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।
لَا يُظْلَمُونَ – তাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম বা অবিচার করা হবে না।
তাফসীর:
হে রাসূল! আপনি তাদেরকে সেই ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিন, যেদিন প্রতিটি প্রাণী নিজের জন্যেই উপস্থিত হবে এবং নিজের পক্ষেই বিতর্ক ও ওজর-আপত্তি পেশ করবে। সেদিন এতটাই ভয়ানক অবস্থা হবে যে, কেউ অন্যের জন্য সুপারিশ বা বিতর্ক করার সুযোগ পাবে না; প্রত্যেকে হবে নিজের চিন্তায় মগ্ন, নিজের মুক্তির জন্যই ব্যস্ত। প্রতিটি মানুষ তার ভালো-মন্দ যাবতীয় আমলের পূর্ণ হিসাব পাবে। যারা ভালো কাজ করেছে তারা পূর্ণ প্রতিদান পাবে, আর যারা মন্দ কাজ করেছে তারা তার উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করবে। তবে আল্লাহ তায়ালা কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করবেন না—কারো নেকির সওয়াব কমানো হবে না, আর কারো গুনাহের শাস্তি বাড়ানোও হবে না। প্রত্যেকে তার নিয়ত ও কর্ম অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষ নিজের জন্যই দায়ী থাকবে; তাই আমাদের উচিত এখনই নিজের আমল সংশোধন করা, অন্যের দোষ ধরে সময় নষ্ট না করা।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তায়ালা পরম ন্যায়বিচারক—তিনি কারো প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। তাই আমাদের উচিত তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং তাঁর বিধান মেনে চলা।
দুনিয়ার জীবনে আমরা যত ছোট-বড় কাজই করি না কেন, তার প্রতিদান অবশ্যই পাব। এই বিশ্বাস আমাদেরকে ভালো কাজে অটল থাকতে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে শক্তি যোগায়।
যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য কোনো ভয় ও চিন্তা নেই; বরং তারা কিয়ামতের কঠিন দিনেও নিরাপদ থাকবে। এটি মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।
আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন একটি জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, তথায় প্রত্যেক জায়গা থেকে আসত প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর তারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। তখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে স্বাদ আস্বাদন করালেন, ক্ষুধা ও ভীতির।
তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল আগমন করেছিলেন। অনন্তর ওরা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করল। তখন আযাব এসে তাদরকে পাকড়াও করল এবং নিশ্চিতই ওরা ছিল পাপাচারী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।