অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- يَدْعُونَ – তারা ডাকে, আহ্বান করে (অর্থাৎ উপাসনা করে)।
- مِن دُونِهِ – তিনি (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কিছুকে।
- مِن شَيْءٍ – কোনো কিছুই নয়; বস্তুত এখানে ‘مِن’ নফি বা অস্বীকৃতির জন্য এসেছে, অর্থাৎ তারা যা ডাকে তা আসলে কিছুই নয়।
- الْعَزِيزُ – পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না।
- الْحَكِيمُ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞা ও নিখুঁত পরিকল্পনার সাথে করেন।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, মুশরিকরা তাঁর পরিবর্তে যেসব মাবুদকে ডাকে বা উপাসনা করে, তিনি তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পূর্ণরূপে অবগত আছেন। এগুলো আসলে কিছুই নয়—এদের কোনো অস্তিত্বগত বাস্তবতা নেই, কোনো ক্ষমতা নেই, উপকার-অপকার করার কোনো সামর্থ্যও নেই। এগুলো কেবল কিছু নাম মাত্র, যা মুশরিকরা নিজেরা রটিয়ে নিয়েছে; বাস্তবে এদের কোনো সত্তা বা প্রভাব নেই। আল্লাহ জানেন যে, এরা সবই অসহায় ও ক্ষমতাহীন। তিনি বলেন, “তারা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকে, আল্লাহ তা জানেন যে তারা কিছুই নয়।” অর্থাৎ এই মিথ্যা উপাস্যগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর জ্ঞান পরিপূর্ণ; তাঁর কাছ থেকে কিছুই গোপন নেই। আর তিনি হচ্ছেন আল-আযীয—পরাক্রমশালী, যাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারে না, যাঁর ক্ষমতার সামনে সবকিছু নত; এবং তিনি আল-হাকীম—প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি সৃষ্টি, প্রতিটি বিধান এবং প্রতিটি কাজ অপরিসীম প্রজ্ঞা ও সুচিন্তিত পরিকল্পনার সাথে সম্পন্ন করেন। তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার সাথে তুলনা করলে এই উপাস্যগুলোর অবস্থান একেবারেই তুচ্ছ ও মূল্যহীন।
ফায়েদা (শিক্ষা ও উপকারিতা):
- এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে; মানুষের গোপন ও প্রকাশ্য সব কাজ, এমনকি তারা যাদের পূজা করে তাদের অবস্থাও আল্লাহ জানেন। তাই আমাদের প্রতিটি কাজে সচেতন থাকা উচিত যে, আল্লাহ সব দেখছেন ও জানছেন।
- আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনা বা ভরসা করা সম্পূর্ণ নিরর্থক; কারণ এসব কিছুরই কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, কোনো ক্ষমতা নেই। প্রকৃত শক্তি ও কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে।
- আল্লাহর গুণাবলি আল-আযীয ও আল-হাকীম আমাদের মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জাগায় যে, তিনি যা কিছু করেন তা প্রজ্ঞার সাথে করেন; তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিখুঁত। তাই তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলাই আমাদের কল্যাণের পথ।
- এই আয়াত মুমিনের অন্তরে তাওহিদের (একত্ববাদের) শিক্ষাকে সুদৃঢ় করে এবং শিরক থেকে দূরে থাকার প্রেরণা দেয়; কারণ শিরক এমন একটি পথ, যার শেষ পরিণতি শূন্যতা ও ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
📜 আয়াত 40-44 — আল-আঙ্কাবুত
অনুবাদ — আল-আঙ্কাবুত 42
সূরা আল-আঙ্কাবুত আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা আল্লাহর পরিবর্তে যা কিছুকে ডাকে, আল্লাহ তা জানেন। তিনি…সূরা আয়াত 42/69 — আল-আঙ্কাবুত العنكبوت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আঙ্কাবুত শুনুন, আল-আঙ্কাবুত অনুবাদ, আল-আঙ্কাবুত mp3, আল-আঙ্কাবুত pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








