তারা প্রথম থেকেই তাদের প্রতি এই বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার পূর্বে নিরাশ ছিল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَمُبْلِسِينَ — অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিরাশ, হতাশ ও বিষণ্ণ।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে মানুষ যখন দেখে যে, আকাশে মেঘ জমেছে কিন্তু বৃষ্টি নামছে না, অথবা খরার কারণে দীর্ঘদিন বৃষ্টি হয়নি, তখন তারা সম্পূর্ণ নিরাশ ও হতাশ হয়ে পড়ে। তাদের মনে হয়, বুঝি আর বৃষ্টি আসবেই না। এ অবস্থায় তারা চরম দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতায় ডুবে যায়। কিন্তু যখন আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি নেমে আসে, তখন তাদের সে নিরাশা দূর হয়ে যায় এবং তারা আনন্দিত হয়। এখানে মানুষের দুর্বলতা ও আল্লাহর কুদরতের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, বৃষ্টি আনা বা না আনা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইখতিয়ারে। মানুষের চেষ্টা বা আশা-নিরাশা কিছুই কার্যকর নয়, যদি না আল্লাহ চান।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা ও হতাশা আসা স্বাভাবিক, কিন্তু মুমিনের কর্তব্য কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া।
বৃষ্টি, রিজিক, জীবন-মৃত্যু সবকিছু আল্লাহর হাতে। তাই যেকোনো সংকটে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া উচিত।
বিপদ-দুর্দশায় ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ঈমানের পরিচয়। আল্লাহই একমাত্র উদ্ধারকারী।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। তাই হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের অপেক্ষায় থাকা এবং তাঁর কাছে দোয়া করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
আপনার পূর্বে আমি রসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর যারা পাপী ছিল, তাদের আমি শাস্তি দিয়েছি। মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।
তিনি আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।
অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।