আন-নিসা · 115/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا ۝١١٥
Wa mai yushaaqiqir Rasoola mim ba`di maa tabaiyana lahul hudaa wa tattabi` ghaira sabeelil mu`mineena nuwallihee ma tawallaa wa nuslihee Jahannama wa saaa`at maseeraa
📖 বাংলা অর্থ
যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • يُشَاقِقِ — বিরোধিতা করা, শত্রুতা করা, বিপক্ষে দাঁড়ানো।
  • تَبَيَّنَ — স্পষ্ট হয়ে যাওয়া, প্রমাণিত হওয়া।
  • الْهُدَى — সত্য পথ, হেদায়েত।
  • سَبِيلِ — পথ, তরিকা।
  • نُوَلِّهِ — আমরা তাকে ছেড়ে দেব, তাকে তার নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেব।
  • نُصْلِهِ — আমরা তাকে প্রবেশ করাব (জাহান্নামের আগুনে)।
  • مَصِيرًا — পরিণাম, প্রত্যাবর্তনের স্থান।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা করে এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করে—যদিও তার কাছে সত্য পথ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়ে গেছে, অর্থাৎ হেদায়েতের দলিল-প্রমাণ তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে—আর সে মুমিনদের পথ (অর্থাৎ ইসলামের পথ) ছেড়ে অন্য কোনো পথ অনুসরণ করে, তবে তার শাস্তি কী হবে?

আল্লাহ বলেন, আমরা তাকে ছেড়ে দেব সেই পথেই যা সে নিজে বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, আমরা তাকে তার ভ্রান্ত পথে চলতে দেব এবং তাকে সত্যের তাওফিক দেব না। এরপর তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করানো হবে, যেখানে সে ভয়ানক যন্ত্রণা ভোগ করবে। আর জাহান্নামই তার জন্য কতই না নিকৃষ্ট পরিণাম!

আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত আছে যে, এটি তু'মাহ নামক এক ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। সে চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার পর লজ্জা ও শাস্তির ভয়ে মক্কায় পালিয়ে যায় এবং সেখানে গিয়ে ইসলাম ত্যাগ করে (মুরতাদ হয়ে যায়)। অতঃপর সে মক্কার এক ব্যক্তির ঘরের দেয়ালে চুরি করার জন্য সুড়ঙ্গ খনন করতে গিয়ে দেয়ালচাপা পড়ে মারা যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই আয়াতটি নাজিল হয়।

মূল কথা হলো, সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ বেছে নেয়, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘৃণা, পথভ্রষ্টতা এবং জাহান্নামের শাস্তি।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্য পথ স্পষ্ট হওয়ার পর তা গ্রহণ করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করা এবং রাসূলের বিরোধিতা করা মারাত্মক অপরাধ।
  2. মুমিনদের ঐক্য ও ঐকমত্যের পথই হলো সঠিক পথ। মুমিনদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করা ধ্বংসের কারণ।
  3. আল্লাহ তাআলা মানুষকে জোর করে সত্য গ্রহণে বাধ্য করেন না; বরং মানুষ নিজে সত্য গ্রহণ করলে তাকে তাওফিক দেন, আর মিথ্যা বেছে নিলে তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দেন। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারেরই অংশ।
  4. জাহান্নামের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। একজন বুদ্ধিমান মুমিনের উচিত সেই পথ থেকে দূরে থাকা, যা তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
  5. ইসলামের পথই একমাত্র নিরাপদ পথ। এই পথে চললে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে সফলতা অর্জিত হয়।


📜 আয়াত 113-117 — সূরা আন-নিসা

113وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ لَهَمَّت طَّائِفَةٌ مِّنْهُمْ أَن يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ ۖ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِن شَيْءٍ ۚ وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ ۚ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا
যদি আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত, তবে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। তারা পথভ্রান্ত করতে পারে না কিন্তু নিজেদেরকেই এবং আপনার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।
114۞ لَّا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
তাদের অধিকাংশ সলা-পরামর্শ ভাল নয়; কিন্তু যে সলা-পরামর্শ দান খয়রাত করতে কিংবা সৎকাজ করতে কিংবা মানুষের মধ্যে সন্ধিস্থাপন কল্পে করতো তা স্বতন্ত্র। যে একাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমি তাকে বিরাট ছওয়াব দান করব।
115وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।
116إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়।
117إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا إِنَاثًا وَإِن يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَانًا مَّرِيدًا
তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
115আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 115

সূরা আন-নিসা আয়াত 115 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত…

সূরা আয়াত 115/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 113–117. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না