আন-নিসা · 159/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَإِن مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤۡمِنَنَّ بِهِۦ قَبۡلَ مَوۡتِهِۦۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيۡهِمۡ شَهِيدًا  ۝١٥٩
Wa im min Ahlil Kitaabi illaa layu`minanna bihee qabla mawtihee wa Yawmal Qiyaamati yakoonu `alaihim shaheedaa
📖 বাংলা অর্থ
আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • আহলে কিতাব: যাদের উপর আসমানী কিতাব নাজিল হয়েছে, অর্থাৎ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়।
  • لَيُؤْمِنَنَّ: অবশ্যই ঈমান আনবে (এখানে কসম বা জোর দিয়ে বলা হয়েছে)।
  • قَبْلَ مَوْتِهِ: তার মৃত্যুর আগে। এখানে 'তার' বলতে কিতাবধারীর মৃত্যু অথবা ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু — উভয় অর্থই সম্ভব, তবে প্রসিদ্ধ তাফসীর অনুযায়ী কিতাবধারীর মৃত্যুকে বোঝানো হয়েছে।
  • شَهِيدًا: সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকা।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন কেউই থাকবে না — ইয়াহুদী হোক বা খ্রিস্টান — যারা শেষ যুগে ঈসা (আঃ)-এর অবতরণের পর তাকে দেখে ঈমান আনবে না। প্রকৃতপক্ষে, যখন ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য পৃথিবীতে অবতরণ করবেন, তখন প্রত্যেক আহলে কিতাব — ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান — তার প্রতি ঈমান আনতে বাধ্য হবে। ইয়াহুদীরা তাকে মিথ্যাবাদী বলত এবং তার মৃত্যু দাবি করত, আর খ্রিস্টানরা তাকে আল্লাহর পুত্র বলত — উভয়ই সেদিন তার সত্যতা স্বীকার করবে এবং তার অনুসরণ করবে। কিন্তু এই ঈমান তখন তাদের কোনো কাজে আসবে না, কারণ তা হবে মৃত্যুর মুখে বা আযাব দেখার পরের ঈমান, যা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

আর কিয়ামতের দিন ঈসা (আঃ) তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন। তিনি সাক্ষ্য দেবেন যে, ইয়াহুদীরা তাকে মিথ্যা বলেছে, তার মা মারিয়াম (আঃ)-এর উপর অপবাদ দিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে; আর খ্রিস্টানরা তাকে আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করে আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। তিনি তাদের এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কর্ম থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করবেন এবং ঘোষণা করবেন যে, তিনি তো আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মাত্র, আর তিনি তাদেরকে আল্লাহর ইবাদতেরই নির্দেশ দিয়েছিলেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. সত্যের চূড়ান্ত বিজয়: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, সত্য ধর্ম শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে। ঈসা (আঃ)-এর অবতরণের পর সমগ্র আহলে কিতাব তার সত্যতা স্বীকার করবে — এটি ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের একটি সুসংবাদ।
  2. মিথ্যা বিশ্বাসের পরিণাম: ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণে তারা কিয়ামতের দিন লজ্জিত হবে, কারণ ঈসা (আঃ) নিজেই তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন। এটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর রাসূলদের সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস রাখা কত গুরুত্বপূর্ণ।
  3. ঈমানের সময়সীমা: মৃত্যুর আগে বা আযাব দেখার আগে যে ঈমান আনা হয়, তা-ই গ্রহণযোগ্য। মৃত্যুর সময় বা পরবর্তীতে আনা ঈমান কোনো কাজে আসে না। তাই আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সৎকর্ম ও সঠিক ঈমান দিয়ে পূর্ণ করা।
  4. রাসূলগণের নির্দোষতা: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ঈসা (আঃ) কিয়ামতের দিন নিজের উম্মতের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন — এটি তার নির্দোষতা ও নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ। আল্লাহর প্রত্যেক নবী-রাসূল পবিত্র ও নির্দোষ ছিলেন।
  5. কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী: এই আয়াতে এমন একটি ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া হয়েছে যা এখনো ঘটেনি — ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআন আল্লাহর বাণী, কারণ মানুষের পক্ষে ভবিষ্যতের এমন সুনির্দিষ্ট ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 157-161 — আন-নিসা

157وَقَوۡلِهِمۡ إِنَّا قَتَلۡنَا ٱلۡمَسِيحَ عِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ رَسُولَ ٱللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمۡۚ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِّنۡهُۚ مَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍ إِلَّا ٱتِّبَاعَ ٱلظَّنِّۚ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينَۢا 
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।
158بَل رَّفَعَهُ ٱللَّهُ إِلَيۡهِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا 
বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
159وَإِن مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤۡمِنَنَّ بِهِۦ قَبۡلَ مَوۡتِهِۦۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيۡهِمۡ شَهِيدًا 
আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।
160فَبِظُلۡمٍ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمۡنَا عَلَيۡهِمۡ طَيِّبَٰتٍ أُحِلَّتۡ لَهُمۡ وَبِصَدِّهِمۡ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرًا 
বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন।
161وَأَخۡذِهِمُ ٱلرِّبَوٰاْ وَقَدۡ نُهُواْ عَنۡهُ وَأَكۡلِهِمۡ أَمۡوَٰلَ ٱلنَّاسِ بِٱلۡبَٰطِلِۚ وَأَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ مِنۡهُمۡ عَذَابًا أَلِيمًا 
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
159আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 159

সূরা আয়াত 159/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 157–161. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না