মুতাকাব্বিরীন (المتكبرين): যারা অহংকার করে, সত্য মেনে নিতে অস্বীকার করে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন কাফির ও পাপীদের জাহান্নামের দরজাগুলোতে প্রবেশ করার আদেশ দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে: “তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ করো, সেখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য।” এটি তাদের কুফরি ও আল্লাহর অবাধ্যতার শাস্তি। এরপর বলা হয়েছে: “আর কতই না নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল অহংকারীদের জন্য!” অর্থাৎ যারা দুনিয়ায় আল্লাহর কাছে মাথা নত করেনি, সত্য গ্রহণ করতে অহংকার করেছে এবং তাঁর আদেশ মানতে অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য এই জাহান্নামই চূড়ান্ত শাস্তির স্থান। এখানে “মাসওয়া” (আবাসস্থল) শব্দ ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে যে, জাহান্নামে প্রবেশের উদ্দেশ্যই হলো সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা, শুধু কিছু সময়ের জন্য নয়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
অহংকার ও গর্ব是人类 ধ্বংসের মূল কারণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের অহংকার প্রদর্শন করে, তার পরিণাম জাহান্নাম।
দুনিয়ার জীবনে সত্যকে মেনে নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে বিনয়ী হওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এর বিপরীত আচরণই মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
আল্লাহর শাস্তি ন্যায়সংগত এবং তাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। কেউ তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচতে পারবে না।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার সাময়িক ক্ষমতা, সম্পদ বা মর্যাদা যেন আমাদেরকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্রলুব্ধ না করে। বিনয় ও আনুগত্যই সফলতার পথ।
মুমিনের উচিত সর্বদা আল্লাহর রহমতের আশা রাখা এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় করা, যাতে করে দুনিয়ায় সৎকর্ম ও তাকওয়ার পথে চলতে পারে।
আল্লাহ ব্যতীত? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি ভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।
অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে।
আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।