Qaala Rabbi innee laaa amliku illaa nafsee wa akhee fafruq bainanaa wa bainal qawmil faasiqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
মূসা বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাইয়ের উপর ক্ষমতা রাখি। অতএব, আপনি আমাদের মধ্যে ও এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করুন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तब मूसा ने अर्ज़ की ख़ुदावन्दा तू ख़ूब वाक़िफ़ है कि अपनी ज़ाते ख़ास और अपने भाई के सिवा किसी पर मेरा क़ाबू नहीं बस अब हमारे और उन नाफ़रमान लोगों के दरमियान जुदाई डाल दे
মূসা বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাইয়ের উপর ক্ষমতা রাখি। অতএব, আপনি আমাদের মধ্যে ও এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করুন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لَا أَمْلِكُ — আমার নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষমতা নেই।
فَافْرُقْ — তুমি ফয়সালা করে দাও, পৃথক করে দাও।
الْفَاسِقِينَ — যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে সীমালঙ্ঘনকারী।
তাফসীর:
হযরত মুসা (আ.) যখন দেখলেন যে, বনী ইসরাঈল বারবার আল্লাহর আদেশ অমান্য করছে, জিদ ও অবাধ্যতা প্রদর্শন করছে এবং তাঁর নির্দেশ মানতে অস্বীকার করছে, তখন তিনি অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে আল্লাহর দরবারে দু‘আ করলেন। তিনি বললেন: “হে আমার রব! আমি তো কেবল নিজের ও আমার ভাই হারুনের উপরই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি। তাদের (বনী ইসরাঈলের) উপর আমার কোনো ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব নেই। তারা আমার কথা শুনছে না। তাই আপনি আমাদের এবং এই অবাধ্য, সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিন। আমাদেরকে তাদের থেকে পৃথক করে দিন এবং তাদের প্রতি আপনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন।”
মুসা (আ.)-এর এই দু‘আ ছিল তাঁর সম্পূর্ণ নিস্বার্থতা ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসার প্রকাশ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, হিদায়াত দেওয়া একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনি তো শুধু প্রচারক। যখন একটি জাতি নিজের ইচ্ছায় সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তখন নবীও তাদের অন্তর পরিবর্তন করতে পারেন না। তাই তিনি আল্লাহর কাছে ফয়সালা চাইলেন — যেন আল্লাহ তাদের প্রতি যা প্রাপ্য তা প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুসা ও তাঁর অনুসারীদের জন্য যা কল্যাণকর তা নির্ধারণ করেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
নবী-রাসূলগণও মানুষের হিদায়াতের মালিক নন; হিদায়াত সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই দাওয়াতের কাজে ব্যর্থতা বা মানুষের অবাধ্যতা দেখে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।
দায়িত্বশীল ব্যক্তির উচিত নিজের সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা। মুসা (আ.) স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে, মানুষের অন্তর পরিবর্তনের ক্ষমতা তাঁর নেই — এটি আল্লাহর একক এখতিয়ার।
অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনকারীদের থেকে নিজেকে পৃথক রাখা এবং আল্লাহর কাছে তাদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করা বৈধ এবং নবীগণের সুন্নত।
বিপদ-সংকটে আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে দু‘আ করা — মুসা (আ.)-এর এই দু‘আ আমাদের শেখায় যে, সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করা।
নবীগণও সাধারণ মানুষের মতোই আবেগ-অনুভূতির অধিকারী ছিলেন, কিন্তু তাঁরা সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন — এটি আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।
খোদাভীরুদের মধ্য থেকে দু’ব্যক্তি বলল, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেনঃ তোমরা তাদের উপর আক্রমণ করে দরজায় প্রবেশ কর। অতঃপর তোমরা যখন তাতে পবেশ করবে, তখন তোমরাই জয়ী হবে। আর আল্লাহর উপর ভরসা কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
তারা বললঃ হে মূসা, আমরা জীবনেও কখনো সেখানে যাব না, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে। অতএব, আপনি ও আপনার পালনকর্তাই যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করে নিন। আমরা তো এখানেই বসলাম।
মূসা বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাইয়ের উপর ক্ষমতা রাখি। অতএব, আপনি আমাদের মধ্যে ও এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করুন।
আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা ভয়েই কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল, তখন তাদের একজনের উৎসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। সে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। সে বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।