হে মুমিনগণ, তোমরা ঐসব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ ईमानदार जो पाक चीज़े ख़ुदा ने तुम्हारे वास्ते हलाल कर दी हैं उनको अपने ऊपर हराम न करो और हद से न बढ़ो क्यों कि ख़ुदा हद से बढ़ जाने वालों को हरगिज़ दोस्त नहीं रखता
طَيِّبَات (পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ): সেই সকল হালাল বস্তু যা মানুষের জন্য উপকারী, পবিত্র এবং যা আল্লাহ তায়ালা হালাল করেছেন।
لَا تَعْتَدُوا (সীমালঙ্ঘন করো না): আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করো না, অর্থাৎ যা হালাল তা হারাম ঘোষণা করা বা যা হারাল তা হালাল করার চেষ্টা করা।
তাফসির:
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য যেসব পবিত্র ও উত্তম জিনিস হালাল করেছেন—যেমন খাদ্য, পানীয়, বৈধ বিবাহ ও অন্যান্য বৈধ আনন্দ-উপকরণ—সেগুলোকে তোমরা নিজেদের উপর হারাম করে নিও না। কেউ কেউ ধর্মভীরুতা দেখানোর জন্য বা আত্মনিয়ন্ত্রণের ভুল ধারণা থেকে হালাল বস্তুকে নিজেদের জন্য নিষিদ্ধ করে নিত, যা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা প্রকৃতপক্ষে তাদের জন্য রহমত ও সুবিধা। তাই সেগুলোকে হারাম ঘোষণা করা আল্লাহর বিধানের প্রতি অবিচার এবং নিজের উপর অহেতুক কষ্ট চাপিয়ে নেওয়া।
আরও বলা হয়েছে, “তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না” অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করো না। হালালকে হারাম বানানো যেমন সীমালঙ্ঘন, তেমনি হারামকে হালাল বানানোও সীমালঙ্ঘন। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না; বরং তাদের প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হন। কারণ সীমালঙ্ঘনকারীরা নিজেদের ইচ্ছাকে আল্লাহর বিধানের উপর প্রাধান্য দেয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এতে দুনিয়ার বৈধ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করতে নিষেধ করা হয়নি, বরং উৎসাহিত করা হয়েছে।
ধর্মভীরুতা মানে নিজের উপর কষ্ট চাপিয়ে নেওয়া নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে থাকা।
হালাল বস্তুকে হারাম বানানো বা হারামকে হালাল বানানো—উভয়ই আল্লাহর বিধানের প্রতি অবাধ্যতা এবং সীমালঙ্ঘন।
আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু; তিনি তাদের জন্য যা ভালো তা হালাল করেছেন এবং যা ক্ষতিকর তা হারাম করেছেন। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর বিধানকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়া।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামে চরমপন্থা ও কঠোরতার কোনো স্থান নেই; বরং মধ্যপন্থা ও সহনশীলতাই ইসলামের মূল বৈশিষ্ট্য।
হে মুমিনগণ, তোমরা ঐসব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
অতঃপর তাদেরকে আল্লাহ এ উক্তির প্রতিদান স্বরূপ এমন উদ্যান দিবেন যার তলদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা তন্মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
হে মুমিনগণ, তোমরা ঐসব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে, দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক। অথবা, তাদেরকে বস্তু প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দিবে। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।